kalerkantho


আট বিদ্যুেকন্দ্র উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী

ঘরে ঘরে আলো জ্বালব সেটাই আমাদের লক্ষ্য

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ঘরে ঘরে আলো জ্বালব সেটাই আমাদের লক্ষ্য

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ঘরে ঘরে আলো জ্বালব—সেটাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশের একটি ঘরও আর অন্ধকারে থাকবে না।

বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে আমরা গড়ে তুলব। ’

গতকাল বুধবার দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন ট্রান্সমিশন ও বিতরণ লাইনের পাশাপাশি আটটি বিদ্যুেকন্দ্র উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য সবাইকে পরামর্শ দেন।

এর আগে সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে রূপালী ব্যাংকের ‘শিওর ক্যাশ’-এর সাহায্যে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে দেশকে একটি শিক্ষিত জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছে। ’

গতকাল দুপুরে গণভবনে আটটি বিদ্যুেকন্দ্র উদ্বোধনকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

জানা যায়, উদ্বোধন করা বিদ্যুেকন্দ্রগুলোতে মোট এক হাজার ৩৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এতে দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে সদ্য নির্মিত আটটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, একটি সাবস্টেশন এবং একটি সঞ্চালন লাইনও রয়েছে। প্রকল্পগুলো চালু হলে বিভিন্ন জেলার ১০টি উপজেলা এবং বান্দরবানের একটি উপজেলায় বিদ্যুৎ শতভাগ সরবরাহ নিশ্চিত হবে।

১০টি উপজেলা হচ্ছে ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও সাভার, মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, ফেনীর দাগনভূঞা, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর, মেহেরপুরের মুজিবনগর, নীলফামারীর সৈয়দপুর এবং বান্দরবানের থানচি।

আটটি বিদ্যুেকন্দ্র হলো শাহজিবাজার ৩৩০, খুলনা ২২৫, আশুগঞ্জ ৪৫০, মানিকগঞ্জ ৫৫, নবাবগঞ্জ ৫৫, জামালপুর ৯৫, বরিশাল ১১০ ও মদনগঞ্জ ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র।

অনুষ্ঠানে সরাসরি মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য আমরা চেষ্টা করেছি, যার সুফলটা এখন দেশের মানুষ পাচ্ছে। বিএনপি নেত্রী বিদ্যুৎ দিতে না পারলেও দিয়েছিল খাম্বা। কারণ তাঁর ছেলে খাম্বা ইন্ডাস্ট্রি করেছিল। ’

এদিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিদ্যুেকন্দ্র উদ্বোধন উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় বান্দরবান জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং এমপি, ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল যোবায়ের সালেহীন, গাজীপুরে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আলহাজ অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি, পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। টাঙ্গাইলে উপস্থিত ছিলেন এমপি খন্দকার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান ফারুক, জামালপুরে ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি, সাবেক ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা এমপি। গোপালগঞ্জে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা চেয়ারম্যান চৌধুরী এমদাদুল হক, জেলা প্রশাসক মো. মোখলেসুর রহমান সরকার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা। ঢাকার নবাবগঞ্জে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, এমপি ডা. এনামুর রহমান এবং চট্টগ্রামে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার রুহুল আমিন প্রমুখ।

মোবাইলে উপবৃত্তির টাকা বিতরণের কর্মসূচি উদ্বোধন : গতকাল সকালে গণভবনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা রূপালী ব্যাংকের ‘শিওর ক্যাশ’-এর সাহায্যে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রী ট্যাবের সুইচ চেপে এ কার্যক্রম উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি এবং ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত দুই কোটি ৩০ লাখ মায়ের হাতে উপবৃত্তির টাকা পৌঁছে যায়।

কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মায়েদের যাঁদের হাতে মোবাইল ফোন নেই তাঁদের ২০ লাখ সিম এবং ২০ টাকা ফ্রি টকটাইম দেওয়ার চুক্তি করেছে ‘টেলিটক’। টাকা তোলার জন্য কোনো ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না, দূরে যেতে হচ্ছে না। ঘরে বসেই টাকার খবরটা পেয়ে যাচ্ছেন। ’ তিনি আরো বলেন, ‘এই টাকার যেন অপব্যবহার না হয় সেদিকে লক্ষ রেখেই এই পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। কাজেই আমি সত্যই আনন্দিত যে ডিজিটাল বাংলাদেশ আজকে বাস্তব। ’ সূত্র : বাসস।


মন্তব্য