kalerkantho


কূটনীতিকদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক

নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষের কথা তুলে ধরছে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষের কথা তুলে ধরছে বিএনপি

নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে নিজেদের অসন্তোষের কথা ধারাবাহিকভাবে কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরছে বিএনপি। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এর মাধ্যমে দাবি মানাতে অভ্যন্তরীণভাবে সরকারের ওপর চাপ তৈরির পাশাপাশি কূটনীতিকদের দিয়েও সরকারকে চাপে রাখতে চাইছে দলটি। বিএনপির অনেক নেতা মনে করছেন, সরকার ‘আইনি প্যাঁচে’ ফেলে খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়ার চেষ্টা করে বিএনপিকে চাপে রাখছে। কূটনীতিকদের করা বিফ্রিংগুলোতেও এ অভিযোগ করা হচ্ছে। এ ছাড়া সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে অসন্তোষ এবং বিরোধী মত দমনের জন্য নির্যাতন, মামলা-হামলাসহ নানা বিষয়ে অভিযোগও কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির পক্ষ থেকে পাঁচ দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। এর মধ্যে ১৩ ফেব্রুয়ারি ব্রিটেনের পার্লামেন্ট সদস্য ডা. রুপা হকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে, ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত জোহান ফ্রিসেলের সঙ্গে, ২২ ফেব্রুয়ারি মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়ের মায়াদুর সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। চলতি সপ্তাহে যেকোনো সময় কানাডার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে।

এসব বৈঠকে বিএনপি নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, সামনের নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মনোভাব, বিশেষ করে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে কি না তা জানার আগ্রহ রয়েছে কূটনীতিকদের। বৈঠকগুলোতে বিএনপি নেতারা আগামী দিনের নির্বাচনী কলাকৌশলসহ ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলো রাষ্ট্রদূতদের কাছে তুলে ধরে।

বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা মনে করছেন, এসব বৈঠকের আরেকটি তাত্পর্যপূর্ণ দিক হচ্ছে বিদেশি শক্তিগুলো এখনো বিএনপিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। দেশের রাজনীতিতে বিএনপি এখনো অন্যতম শক্তি—এসংক্রান্ত বার্তা দেওয়াও বৈঠকের আরেকটি উদ্দেশ্য। বৈঠকগুলোতে পরামর্শ দেওয়ার চেয়ে বিএনপি নেতাদের কথাই বেশি শুনেছেন কূটনীতিকরা। কৌশলগত কারণেই কূটনীতিকরা নিজেদের তেমন কোনো মতামত দেননি।

তবে বিএনপির আরেকটি অংশ বলছে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রেখে বিএনপি তার দাবি আদায় করতে চায়। এ জন্য তারা সহায়ক সরকারের রূপরেখার প্রস্তাব দিয়ে শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখতে চাইছে। এরই অংশ হিসেবে কূটনীতিকদেরও সার্বিক পরিস্থিতি জানানো হয়েছে। চলতি মার্চ থেকে আগামী মে পর্যন্ত বিএনপি রাজধানীতে বা বিভাগীয় শহরগুলোতে বড় ধরনের জনসভা বা সমাবেশ করতে পারে। জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে না গেলেও এর পরপরই দেশের রাজনীতি নতুন মোড় নিতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাজনৈতিক কৌশল, পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ নানা কারণে আমরা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আলোচনা করে থাকি। এসব বৈঠকও তারই অংশ। ’

দলের যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার বিভিন্ন দেশ। তারা এ দেশের চলমান রাজনীতি, উন্নয়ন, পরিবেশসহ নানা বিষয়ে আমাদের কাছে জানতে চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বৈঠক করি। ’


মন্তব্য