kalerkantho


গ্রাম আবার চিকিৎসকশূন্য হয়ে পড়ছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



গ্রাম আবার চিকিৎসকশূন্য হয়ে পড়ছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ পুরোনো। এ সমস্যা কাটাতে একযোগে ছয় হাজার চিকিৎসককে গ্রামে পোস্টিং দেওয়া হয়। তাঁদের জন্য উন্নত আবাসনসহ প্রণোদনামূলক বেশ কিছু ব্যবস্থাও নেয় সরকার। এর পরও নানা অজুহাতে তাঁরা আগের মতোই ঢাকায় চলে আসেন। গ্রাম আবার প্রায় চিকিৎসকশূন্য হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা চললে গ্রামের মানুষের কী হবে? স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে প্লাস্টিক সার্জারি নিয়ে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী বলেন, নিয়োগের পর থেকে তদবির শুরু হয়ে যায় ঢাকায় আসার জন্য। কার আগে কে আসবেন তা নিয়ে দৌড়ঝাঁপ চলে।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের একপর্যায়ে বগুড়ায় এক রোগীর স্বজনকে ইন্টার্নি চিকিৎসকরা নির্মমভাবে মারধর করার ঘটনায় দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এসব চিকিৎসক আসলে গুণ্ডা। আবার কর্মবিরতির নামে যাঁরা জরুরি চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখেন তাঁরাই বা কেমন চিকিৎসক?’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী একই সঙ্গে ডাক্তারদের দিনরাত কষ্ট করে মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকারও প্রশংসা করে বলেন, চিকিৎসকরা যখন সেবা দেন রোগীরা তখন প্রাণভরে তাঁদের দোয়া করে। একজন রোগীকে বাঁচিয়ে তোলার মতো বড় কাজ আর কিছুই হতে পারে না।

মন্ত্রী বার্ন ইউনিটের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, অগ্নিদদ্ধ একেকজন রোগীকে যেভাবে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারির চিকিৎসকরা সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করেন, তা এক কথায় অনন্য। অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা কাটাতেই প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে দেশে গড়ে তোলা হয়েছে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোসাইটি অব প্লাস্টিক সার্জন অব বাংলাদেশের সভাপতি ডা. সামন্ত লাল সেন। আরো বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল, সোসাইটি অব প্লাস্টিক সার্জন অব বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম ও সম্মেলন কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদ খন্দকার।

অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা দেশে অগ্নিদগ্ধ মানুষের চিকিৎসাসেবার পরিধি আরো বাড়ানোর তাগিদ দেন। বক্তারা বলেন, দেশে অন্তত এক হাজার ৫০০ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককের প্রয়োজন থাকলেও এখন বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক আছেন মাত্র ৮২ জন।


মন্তব্য