kalerkantho


এমপি লিটন হত্যাকাণ্ড

কাদের খানকে তথ্যদাতা চন্দন ভারতে পালিয়েছে

অমিতাভ দাশ হিমুন, গাইবান্ধা   

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কাদের খানকে তথ্যদাতা চন্দন ভারতে পালিয়েছে

গাইবান্ধার সরকারদলীয় এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাণ্ডের আগে তাঁর সার্বক্ষণিক গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করেছেন চন্দন কুমার রায়। গ্রেপ্তারকৃত ডা. কাদের খান ও তাঁর সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক এই সহদপ্তর সম্পাদকের নামটি উঠে এসেছে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে চন্দনের সহযোগী কারা ছিল।

জানা গেছে, একটা সময়ে এমপি লিটনের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন চন্দন। কিন্তু সাংগঠনিক গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে লিটনের বিরোধী পক্ষে চলে যাওয়ার পর তিনি আর এমপির শাহবাজ মাস্টারপাড়া গ্রামে ঢুকতেন না। এমনকি লিটনের বিরুদ্ধে নানা দপ্তরে অভিযোগ-অপপ্রচার চালাতে গিয়ে তিনি এমপির লোকজনের হাতে নিগৃহীতও হন। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, কাদের খানকে এমপি লিটন সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার ব্যাপারে চন্দনের সোর্স হিসেবে কে বা কারা কাজ করেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চন্দনকে তথ্য সরবরাহকারী চক্রটির পরিচয় উদ্ধার হলে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পুরো সিন্ডিকেটের সন্ধান মিলবে।

চন্দন কলকাতায়, অভিযোগ অস্বীকার : এদিকে চন্দন ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা নিশ্চিত হয়েছেন। একটি মোবাইল ফোন নম্বর থেকে গাইবান্ধার কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি তাঁর কলকাতায় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এমপি লিটনের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভ থাকলেও তাঁকে হত্যার ঘটনায় তিনি জড়িত নন।

এ ঘটনায় তাঁকে অহেতুক ফাঁসানো হচ্ছে।   

ডা. কাদেরের জামায়াত কানেকশন : পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, সুন্দরগঞ্জে জামায়াতের পাশাপাশি নব্য জেএমবি জঙ্গিরাও তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে—এটা প্রমাণ করার জন্য ডা. কাদের খান নানামুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেন।

গাঢাকা দিয়েছে ডা. কাদেরের ঘনিষ্ঠরা : ডা. কাদের খানকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর ঘনিষ্ঠরা গাঢাকা দিয়েছে। এদের কেউ কেউ এমপি লিটনকে হত্যার সলাপরামর্শে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এদের ধরতে গোপনে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্থানীয় স্কুল-কলেজের কয়েকজন শিক্ষকও এই ঘটনার পর থেকে কোনো রকম ছুটি অনুমোদন ছাড়াই এলাকা ছেড়েছেন বলে জানা গেছে।


মন্তব্য