kalerkantho


সিলেটে আ. লীগের সংঘর্ষে আহত একজনের মৃত্যু

সিলেট অফিস   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে। এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্য হয়।

এ নিয়ে এই সংঘর্ষে দুজন মারা গেল।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম সোহেল মিয়া (৩৫)। তিনি ওসমানীনগর উপজেলার দক্ষিণ কালনীরচর গ্রামের মাহমুদ মিয়ার ছেলে। সোহেল আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আক্তারুজ্জামান চৌধুরী জগলুর সমর্থক বলে জানা গেছে।

গত রবিবার আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আতাউর রহমানের সমর্থকদের সঙ্গে জগলু চৌধুরীর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুলিতে ঘটনাস্থলেই সাইফুল ইসলাম নামে এক কিশোর নিহত হয়। এ ছাড়া সংঘর্ষে আহত হয় অন্তত ২০ জন। সাইফুলকে নিজের কর্মী বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতাউর। যদিও তাঁর বাড়ি পাশের উপজেলায়।

আহতদের মধ্যে সোহেল মিয়া ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রাত দেড়টায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ওসমানীনগর থানার ওসি আব্দুল আউয়াল চৌধুরী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে কালের কণ্ঠকে বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ওই হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রবিবারের সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় মামলা করেনি বলে তিনি জানান।

তবে পুলিশ ছয়জনকে আটক করেছে জানিয়ে ওসি বলেন, যেহেতু এখনো মামলা হয়নি, তাই তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষের কারণ সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে এক পক্ষ দাবি করলেও এলাকায় এ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। অপর পক্ষের দাবি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে এটিকে নির্বাচনী সহিংসতা বলে প্রচার করা হয়।

ঘটনাটিকে নির্বাচনী সহিংসতা নয় বলে যারা দাবি করছে তাদের বক্তব্য হলো, রবিবার যে দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে তারা দুই উপজেলার বাসিন্দা। স্থানীয় কালনীরচর খাল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। দুই উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় এলাকার দ্বন্দ্ব বিরাজ করে এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে। রবিবারের সংঘর্ষে এই দ্বন্দ্বই কাজ করেছে বলে দাবি এই পক্ষের।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ওই এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক কবির উদ্দিনের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সাদীপুর ইউনিয়নে একের পর এক সন্ত্রাসীর জন্ম দিচ্ছে এক ব্যক্তি। সে চায় ওই এলাকায় একক আধিপত্য। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সব অপকর্ম বন্ধ হবে। ’

জেলা যুবলীগের সভাপতি এবং ওই এলাকার বাসিন্দা শামীম আহমদ সংঘর্ষের ঘটনাটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক দাবি করেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে ফায়দা নেওয়ার জন্য একজন প্রার্থী অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘উত্তর ও দক্ষিণ কালনীরচরের মানুষের আঞ্চলিকতা ও খাল নিয়ে প্রতিবছর এখানে সংঘর্ষ হয়ে থাকে। গত বছরও সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। ’ তিনি বলেন, সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর ভাই কবির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কবির উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। এতে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে রাত ১০টায় তাঁকে ছেড়ে দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) সুজ্ঞান চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ‘ওই দিন সকালে সংঘর্ষে কিশোর সাইফুল হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কবির চেয়ারম্যানকে ডেকে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে রাতে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ’

উল্লেখ্য, আগামী ৬ মার্চ ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হবে। নির্বাচনে চারজন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের দুজন। বাকি দুজনের একজন বিএনপির, অন্যজন জাতীয় পার্টির। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক আক্তারুজ্জামান চৌধুরী জগলু। যদিও পরে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।


মন্তব্য