kalerkantho


রোহিঙ্গা শুমারি শুরু হতে পারে আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের তালিকা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার থেকে রোহিঙ্গা শুমারি শুরু হতে পারে বলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে।

তবে শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতির ঘাটতি থাকায় আজকের পরিবর্তে আগামীকাল বুধবার থেকেও এ কাজ শুরু হতে পারে। আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত এই শুমারি চলবে।

কক্সবাজারের আট উপজেলার মধ্যে পাঁচটিতে, অর্থাৎ টেকনাফ, উখিয়া, কক্সবাজার সদর, রামু ও চকরিয়ায় এই শুমারির কাজ চলবে। এরই মধ্যে কক্সবাজার ব্যুরো অফিস রোহিঙ্গাদের তথ্য জানতে মাঠ পর্যায়ে লোক নিয়োগ দিয়েছে। তবে পেকুয়া উপজেলায় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিলেও তাদের গণনায় আওতায় নিচ্ছে না পরিসংখ্যান ব্যুরো। পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নের একজন ইউপি সদস্য জানিয়েছেন, তাঁর কাছ থেকে খোঁজখবর না নিয়েই এ ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে নাগরিকত্ব সনদ দিয়েছেন বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান। এ নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে দেওয়া একটি অভিযোগ এখন তদন্তাধীন।

কক্সবাজার জেলার পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্মকর্তা ওয়াহিদুর রহমান গতকাল কালের কণ্ঠকে জানান, শুমারি শুরু করার জন্য গণনাকারীরা মাঠে অবস্থান করছেন। মঙ্গলবার থেকে সম্ভব না হলে বুধবার থেকে এসব উপজেলায় একযোগে রোহিঙ্গা শুমারি শুরু হবে।

এ জন্য ৪০০ জন গণনাকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি দলে একজন সুপারভাইজার ও একজন গণনাকারী হিসেবে ভাগ হয়ে গণনার কাজ করা হবে।

রোহিঙ্গা শুমারির প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন করতে গত শনিবার কক্সবাজার আসেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কে এম মোজাম্মেল হক। তিনি উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। ২০১৫ সালের জুন মাসেও বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা জানতে শুমারি হয়েছিল। ওই শুমারির ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

কক্সবাজারের পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্মকর্তা বলেন, মিয়ানমার থেকে নতুন করে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য রয়েছে। তিনি বলেন, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই এই তিনটি উপজেলায় রোহিঙ্গা গণনা হচ্ছে না। এদিকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে স্থানীয় লোকজনের দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নেও বহুসংখ্যক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এই রোহিঙ্গাদের স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে সনদও দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


মন্তব্য