kalerkantho


পুলিশের চাকরি না ছাড়ায় এক নারী কনস্টেবলকে হত্যা!

স্বামী পলাতক, শ্বশুরসহ আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পুলিশের চাকরি না ছাড়ায় বিয়ের এক মাসের মাথায় এক নারী কনস্টেবলকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁর নাম আয়েশা আক্তার নীলা (২২)। গত রবিবার সন্ধ্যায় নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার তারাকান্দি গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে নীলার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নীলার স্বামী রুবেল মিয়া পলাতক। পুলিশ নীলার শ্বশুর জালাল উদ্দিন এবং দেবর সোহাগ, হিমেল ও কবিরকে আটক করেছে। পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত পুলিশ সদস্য আয়েশা আক্তার নীলা মনোহরদী উপজেলার হাফিজপুর গ্রামের কাজী মফিজ উদ্দিনের মেয়ে। গত ২২ জানুয়ারি একই উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামের জালাল উদ্দিনের মালয়েশিয়াপ্রবাসী স্বামী রুবেল মিয়ার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। নীলা হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানায়, দেড় বছর আগে রুবেল মালয়েশিয়া থেকে দেশে এলে তাঁর সঙ্গে নীলার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কটি উভয় পরিবার মেনে নিলে পারিবারিকভাবে তাঁদের আংটি বদল (বাগদান) হয়।

কিছুদিন পর রুবেল মালয়েশিয়া চলে যান। কিন্তু বাগদানের পর থেকেই পুলিশের চাকরি ছাড়তে নীলাকে চাপ দিতে থাকে রুবেল ও তাঁর পরিবারের লোকজন। তাতে নীলা রাজি হচ্ছিলেন না। তিনি পুলিশ বাহিনীতে চাকরি অব্যাহত রাখায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। এর ফলে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান পিছিয়ে যায়। গত ১ জানুয়ারি রুবেল মালয়েশিয়া থেকে দেশে আসেন এবং নীলাকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসার অনুরোধ জানান।

এ অবস্থায় গত ২২ জানুয়ারি নীলা ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন। দেখা হলে রুবেল সেদিনই নীলাকে গোপনে বিয়ে করতে বলেন। তাতে সম্মতি দিলে ওই দিন গোপনে রুবেলের সঙ্গে নীলার বিয়ে হয়। বিয়ের পর রুবেল স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ওঠেন। পরদিন বিষয়টি জানার পর নীলার বাবা মফিজ উদ্দিন তাঁর মেয়ে এবং জামাতাকে আনতে গেলে রুবেলের স্বজনরা বাধা দেয়। এতে নীলার বাবা ফিরে আসেন। বিয়ের দুই দিন পরই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন নীলাকে পুনরায় চাকরি ছাড়ার চাপ দেয় এবং তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। বিষয়টি নীলা তাঁর বাবা ও ভাইকে অবগত করেন। এর কিছুদিন পর নীলা ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দেন। এর পর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে মনোমালিন্যও বাড়তে থাকে।

পরে গত ৭ ফেব্রুয়ারি নীলা আবারও ১০ দিনের ছুটি নিয়ে কর্মস্থল থেকে শ্বশুরবাড়িতে আসেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ছুটি শেষ হয়ে গেলেও তিনি কর্মস্থলে ফিরতে পারেননি। ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের কারণে তাঁর পক্ষে কর্মস্থলে ফেরা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে বাবার বাড়িও আর যাওয়া হয়নি নীলার। এ অবস্থায় গত রবিবার সন্ধ্যায় পরিবারের লোকজন নীলার মৃত্যুর সংবাদ পায়।


মন্তব্য