kalerkantho


রক্ষা পাঁচ বিদেশিসহ সাতজনের

হেলিকপ্টারের কাচ ভেঙে পাখি ভেতরে

নিজস্ব প্রতিবেদক হাওরাঞ্চল   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



হেলিকপ্টারের কাচ ভেঙে পাখি ভেতরে

সিলেটগামী হেলিকপ্টারটি গতকাল বাজিতপুরের পাইলাধর বিলের ওপর এসে দুর্ঘটনার পড়ে। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রািয় এক হাজার ফুট ওপর দিয়ে ঢাকা থেকে সিলেট যাচ্ছিল মেঘনা এভিয়েশনের একটি হেলিকপ্টার। হঠাৎ একটি উড়ন্ত পাখির সঙ্গে ধাক্কা লেগে হেলিকপ্টারটির সামনের কাচ গুঁড়ো হয়ে যায়। ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন পাখিটি ভাঙা কাচ ফুঁড়ে ঢুকে যায় হেলিকপ্টারের ভেতর। বেগতিক দেখে পাইলট হেলিকপ্টারটি বিলের মধ্যে নিরাপদে অবতরণ করান। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান আরোহী পাঁচ বিদেশি নাগরিকসহ সাতজন। তবে ভাঙা কাচের টুকরো লেগে ডেনমার্কের নাগরিক অ্যান্ডারসন সামান্য আহত হন।

গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের পূর্বদিকের পাইলাধর বিলে হেলিকপ্টারটি অবতরণ করে। ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর ঢাকা থেকে আরো দুটি হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের উদ্ধার করে সিলেটে নিয়ে যায়। একই সময় প্রকৌশলীরা এসে দুর্ঘটনাকবলিত হেলিকপ্টার মেরামত করে। পরে বেলা পৌনে ৩টায় এ হেলিকপ্টারটি ঢাকায় ফিরে যায়।

হেলিকপ্টারের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেঘনা এভিয়েশনের হেলিকপ্টারটি ভাড়া করে পাঁচ বিদেশি নাগরিকসহ ছয়জন সিলেটে যাচ্ছিলেন।

পথে বাজিতপুরের আকাশে এসে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। হেলিকপ্টারটির পাইলট (বিমানবাহিনীর সাবেক স্কোয়াড্রন লিডার) ক্যাপ্টেন রাশেদুল আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হেলিকপ্টারের সঙ্গে পাখিটির আচমকা ধাক্কা লাগায় ভ্যাবাচেকা খেয়ে যাই। হেলিকপ্টারের সামনের কাচ ভেঙে ছিন্নভিন্ন পাখিটি ছিটকে ভেতরে চলে আসে। পরে বাধ্য হয়ে একটি বিলের ওপর অবতরণ করি। ’ তিনি জানান, পাখিটি দেখতে তেমন বড় নয়।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু পাইলাধর বিলে যায়। দূরদূরান্ত থেকেও অনেকে ঘটনাস্থলে আসেন। এমনকি বাজিতপুর ও কটিয়াদীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শত শত ছাত্রছাত্রীও ওই বিলে ভিড় জমায়।

হেলিকপ্টারের আরোহী ডেনমার্কের এলপিজি ও এলএনজি প্রযুক্তি সরবরাহকারী কম্পানি কোসান ক্রিসপ্লান্টের (Cosan Crisplant) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রব স্টিভেন কালের কণ্ঠকে জানান, সিলেটে অনুষ্ঠিত বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসবে যাচ্ছিলেন তাঁরা।


মন্তব্য