kalerkantho


বরিশালে দাখিলের প্রশ্নপত্র ফাঁস করে উত্তরপত্র বিতরণ

কেন্দ্র সচিবসহ আটক ৬

বরিশাল অফিস   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বরিশালে দাখিল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে উত্তরপত্র বিতরণের অভিযোগে কেন্দ্র সচিবসহ ছয়জনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল রবিবার সকালে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ইসলামীয়া মাদরাসা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র, গাইড বই ও মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়েছে। দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার ইসলামীয়া মাদরাসা কেন্দ্রের সচিব মোস্তাফিজুর রহমান বাশার, মাদরাসা শিক্ষক মাওলানা নূরুজ্জামান, মাওলানা মো. জসীম উদ্দিন, মাওলানা মেহেদী হাসান, মাওলানা আবু হানিফ ও মাওলানা আবদুস সালাম।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার এস এম আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার সকালে গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবীর বাকেরগঞ্জে অবস্থান নেন। পৌর এলকার রুনসী গ্রামের ইসলামীয়া মাদরাসা কেন্দ্রের সচিব মোস্তাফিজুর রহমান বাশারের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখান থেকে রবিবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত পরীক্ষা পদার্থবিজ্ঞান ও ইসলামের ইতিহাসের লিখিত ও নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে উত্তরপত্রও পাওয়া যায়। তখন কেন্দ্র সচিবকে আটক করা হয়।

পুলিশ সুপার আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায় প্রতিদিন পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট কিংবা এক ঘণ্টা আগে সিলগালা করা প্রশ্নপত্রের খাম খুলে প্রশ্ন বের করা হয়।

এরপর ওই প্রশ্নে উত্তরপত্র তাঁর বাসাতেই তৈরি করা হয়। পরীক্ষা শুরুর পর সেগুলো স্থানীয় সিফা ফটোস্ট্যাটের দোকান থেকে কপি করে তা পরীক্ষাকেন্দ্রে অপেক্ষমাণ পরীক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তিনি জানান, আবার কখনো কখনো ওই উত্তরপত্র সরাসরি পরীক্ষকদের হাতে চলে যায়। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিবের সঙ্গে জড়িত ওই মাদরাসার আরো পাঁচ শিক্ষককে মাদরাসা থেকে আটক করা হয়। তাঁদের আটক করে বরিশালে নিয়ে আসা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র, গাইড বই ও মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এস এম আক্তারুজ্জামান জানান, প্রচলিত আইনে আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আরো অনেকে জড়িত থাকতে পারে বলে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ওই পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রায় ৬০০ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে এই অন্যায়ের সুযোগ গ্রহণ করে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জয়নুল আবেদিন বলেন, প্রশ্নপত্রসহ আটকের পরে ওই শিক্ষকদের কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরো কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত শেষে ফৌজদারি বিধিমালায় পাবলিক পরীক্ষা আইনে মামলা করা হবে।


মন্তব্য