kalerkantho


সিলেটে বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব

শিকড়সন্ধানী আয়োজনে ফেরে সোনালি অতীত

সিলেট অফিস   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সিলেটে বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসবস্থলে গুরুসদয় দত্ত চত্বরটা যেন একটু স্বতন্ত্র ও ব্যতিক্রমী। উৎসবের পুরোটা জুড়ে যেখানে চাকচিক্যের সমাহার, সেখানে গুরুসদয় চত্বর আবহমান বাংলার প্রতিনিধি হয়ে যেন ঠায় দাঁড়িয়ে।

বাঁশ ও বেতের মিশ্রণে নান্দনিকভাবে তৈরি এই চত্বরের স্টলগুলো। তাতে প্রদর্শিত হচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্য ধারণ করা চারু ও কারুপণ্য। চত্বরের মাঝখানে বায়োস্কোপ নিয়ে দর্শকের নজর কাড়তে ব্যস্ত বায়োস্কোপওয়ালা। নগরে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের জন্য এটি বাড়তি কৌতূহলের উৎস যেন। উৎসবে যাঁরাই আসছেন, অন্তত একবার হলেও ঢুঁ মারছেন ‘কারুমেলা’ নামের এই প্রদর্শনীতে।

কারুমেলা ঘুরে নিজের মুগ্ধতার কথা জানালেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহমিদা খান ঊর্মি। তিনি বলেন, ‘উৎসবে যেদিনই আসি, একবার ঘুরে যাই কারুমেলায়। প্রতিবারই মনে হয়, যেন পুরোপুরি দেখা হলো না। ’

সুদূর ঝিনাইদহের শোলাকাঠের শিল্পকর্ম নিয়ে উৎসবে এসেছেন গোপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।

প্রায় তিন যুগ ধরে তিনি এই কাজ করছেন। এরই মধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শোলাশিল্পীর খ্যাতি অর্জন করেছেন। তাঁর একেকটি তাজমহল তিন হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া ময়ূরপঙ্খি নাও বিক্রি করেন পাঁচ হাজার টাকায়। তিনি জানান, প্রতিবছর সোনারগাঁও হোটেলে বৈশাখী মেলায় তাঁর শিল্পকর্ম কিনে নিয়ে যান বিদেশিরা।

শুধু ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী শোলা শিল্পকর্মই নয়, কারুমেলায় এলে চোখে পড়বে কুষ্টিয়ার একতারা ও দোতারা, নারায়ণগঞ্জের হাতপাখা, জামদানি ও কাঠশিল্প, কুমিল্লার খাদি, ঢাকার ধাতব শিল্প, উল ও পাটজাত পণ্য, শঙ্খ, রাজশাহীর পোড়ামাটির কারুশিল্প ও শখের হাঁড়ি, লহরি কাঁথা, মাগুরার শোলার মালা, বরিশালের মৃৎশিল্প, যশোরের নকশিকাঁথা, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির তাঁত, সিরাজগঞ্জের গামছা, লুঙ্গি ও শাড়ি, ময়মনসিংহের কাগজ শিল্পকর্ম এবং টাঙ্গাইলের শাড়ি ও বাঁশের কাজ। সিলেটের মনিপুরি বয়নশিল্প ও শীতলপাটিরও দেখা মিলবে কারুমেলায়। এই সব শিল্প দেখে সোনালি অতীতে ফিরে যান বয়োবৃদ্ধরা।

সিলেটে ১০ দিনব্যাপী বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসবে এ রকম শিকড়সন্ধানী আরো আয়োজন রয়েছে। যথারীতি হাসন রাজা মঞ্চে গতকালও ছিল নানা আয়োজন। নীলাঞ্জনা দাশের পরিচালনায় নৃত্যানুষ্ঠান দ্রোহকাল পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রাণ পায় মূল মঞ্চটি। এরপর রাজরূপা চৌধুরীর সরোদ বিমোহিত করে শ্রোতাদের। রবীন্দ্রনাথ ও তিন কবির গান, লাইসা আহমদ লিসা এবং সব শেষে কুদ্দুস বয়াতির পরিবেশনা মুগ্ধ করে শিল্পপ্রেমীদের। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয় কালি ও কলম সাহিত্য সম্মেলনের তৃতীয় ও শেষ দিনের কার্যক্রম। ‘আজকের শিল্পভাষা—আর্ট, পারফরম্যান্স ও কবিতার নির্মাণ’ শীর্ষক অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সকাল সাড়ে ১০টায় সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চে শুরু হয় চার অধিবেশনের সাহিত্য সম্মেলনের কার্যক্রম। দিনের বাকি তিনটি অধিবেশনই ছিল কবিতাকেন্দ্রিক।

আজকের অনুষ্ঠানমালা : আজ সোমবার উৎসবের ষষ্ঠ দিনে বিকেল ৪টায় প্রদর্শিত হবে চলচ্চিত্র ‘অজ্ঞাতনামা’। সন্ধ্যা ৬টা ও রাত ৮টায় প্রদর্শিত হবে যথাক্রমে ‘জালালের গল্প’ ও ‘আয়নাবাজি’ চলচ্চিত্র। এরপর থাকবে রামকৃষ্ণ সরকার ও তাঁর দলের ধামাইল, চা জনগোষ্ঠীর ঝুমুরনৃত্য, নাগরি পুঁথি পরিবেশন, সিলেটের আঞ্চলিক ভাষার গান ও বাউলগান।


মন্তব্য