kalerkantho


দ্বিতীয় ধাপে ১১ প্রকল্পে ১৬৬ কোটি ডলার ঋণ দিতে সম্মত ভারত

আরিফুর রহমান   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দ্বিতীয় ধাপে ১১ প্রকল্পে ১৬৬ কোটি ডলার ঋণ দিতে সম্মত ভারত

দ্বিতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে যে ২০০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার কথা রয়েছে ভারত সরকারের, তার আওতায় এখন পর্যন্ত ১১টি প্রকল্পে অর্থায়নে সম্মতি জানিয়েছে দেশটি। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ভারত সরকারের কাছ থেকে ১৬৬ কোটি ডলার ঋণ পাওয়া যাবে। ভারতের এক্সিম ব্যাংকের কাছে অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে ১৪টি প্রকল্প পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৪ কোটি ডলার ব্যয়ের প্রাক্কলনসহ তিনটি প্রকল্পের সম্মতি এখনো পাওয়া যায়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ভারত সরকারের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত যে ১১ প্রকল্পের সম্মতি পাওয়া গেছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে আজ সোমবার আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৫ সালের জুনে ঢাকা সফরে এসে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে দ্বিতীয় দফায় ২০০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে যান, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। তাঁর সফরের সময় দুই পক্ষের মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর ৯ মাস পর গত বছরের ৯ মার্চ  বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এসংক্রান্ত চূড়ান্ত চুক্তি সই হয়। এ ঋণের টাকায় ১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (এশিয়া উইংয়ের প্রধান) অতিরিক্ত সচিব শাহ আমিনুল হক। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ, নৌ, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসহ ১১ প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত ভারতের এক্সিম ব্যাংকের কাছ থেকে যে ১১ প্রকল্পে অর্থায়নে সম্মতি পাওয়া গেছে সেগুলো হলো বিআরটিসির জন্য ট্রাক কেনা। এ প্রকল্পে ভারত সরকার ২০ কোটি ডলার ঋণ দেবে। এরপর রয়েছে বিআরটিসির জন্য ডাবল ডেকার, সিঙ্গেল ডেকার এসি ও নন এসি বাস কেনা। এ প্রকল্পে ভারত ঋণ দেবে ছয় কোটি ডলার। প্রকল্পগুলো এরই মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে ২৮ কোটি ডলার ব্যয়ে আশুগঞ্জ বন্দর উন্নয়ন, সরাইল থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত চার লেন সড়ক উন্নয়ন ও সৈয়দপুরে সাত কোটি ডলারের রেলওয়ে ওয়ার্কশপ নির্মাণের বিষয়টিও রয়েছে।

এ ছাড়া খুলনা থেকে দর্শনা পর্যন্ত রেল সংযোগে ৩১ কোটি ডলার, পাবর্তীপুর থেকে কাউনিয়া সেকশন পর্যন্ত মিটারগেজ রেললাইন নির্মাণে ১২ কোটি ডলার, বিদ্যুৎ বিভাগের বড়পুকুরিয়া থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত ৪০০ কেভি লাইন নির্মাণে ২১ কোটি ডলার, ভারতের ব্যবসায়ীদের জন্য বাগেরহাটের মোংলা ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে ৯ কোটি ডলার, সড়ক ও জনপথ বিভাগের জন্য উদ্ধার যন্ত্রপাতি ও অন্য সরঞ্জাম কেনা বাবদ ছয় কোটি ডলার, বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট নির্মাণে ২৪ কোটি ডলার এবং দেশের ১২ জেলায় আইটি পার্ক প্রতিষ্ঠায় ১৯ কোটি ডলার ঋণ দিতে রাজি হয়েছে ভারতের এক্সিম ব্যাংক।

এখন পর্যন্ত যে তিনটি প্রকল্পের সম্মতি পাওয়া যায়নি এর মধ্যে দুটি হলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের, অন্যটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা)। তবে ৩৪ কোটি ডলারের এ তিন প্রকল্পেও ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সম্মতি মিলবে বলে আশা করছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্র বলছে, দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০০ কোটি ডলার ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১ শতাংশ। পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছরে বাংলাদেশ এই অর্থ পরিশোধ করতে পারবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ১০০ কোটি ডলার ঋণচুক্তি হয়েছিল ২০১০ সালে। সে ঋণের আওতায় এখনো প্রকল্প চলছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে এখন ২০০ কোটি ডলার ঋণচুক্তির কাজ শুরু হয়েছে।


মন্তব্য