kalerkantho


বুধবার যুক্তিতর্ক

সাক্ষ্য দিয়ে বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি চাইলেন খাদিজা

সিলেট অফিস   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সাক্ষ্য দিয়ে বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি চাইলেন খাদিজা

বখাটে ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের সর্বোচ্চ শাস্তি চাইলেন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা সিলেটের কলেজ ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিস। গতকাল রবিবার আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বিচারকের কাছে তিনি এ আবেদন জানান।

খাদিজার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো আগামী ১ মার্চ বুধবার মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আদালত চত্বরে এসে পৌঁছান খাদিজা। বদরুলকে আদালতে আনা হয় ১১টা ৫০ মিনিটে। দুপুর ১২টায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। খাদিজার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরার মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এ নিয়ে খাদিজাসহ মোট ৩৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হলো।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, খাদিজা সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করার পর বদরুল উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ সময় তিনি কিছু বলার সুযোগ চান আদালতের কাছে। চিত্কার করে বলতে থাকেন, ‘প্লিজ স্যার, আমি বলতে চাই।

আমি মিথ্যা বলব না। আমি একজন শিক্ষক স্যার, আমি একজন ছাত্রলীগ নেতা, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। আমি মিথ্যা বলব না। ’ এ সময় আদালত তাঁকে থামিয়ে দেন এবং সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেন।

আদালতে খাদিজা বলেন, ‘ঘটনার দিন পরীক্ষা দিয়ে এক বান্ধবীর সঙ্গে বেরিয়ে আসার সময় বদরুল আমার পথরোধ করে। সে আমার ওপর ধারালো চাপাতি দিয়ে হামলা চালায়। আমাকে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। ’ এ পর্যায়ে খাদিজা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তখন আইনজীবীরা তাঁকে সান্ত্বনা দেন। এরপর খাজিদা বলেন, ‘বদরুল আমাকে অনেকটা প্রতিবন্ধী বানিয়ে দিয়েছে। আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। ’

মামলার বাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা খাদিজার কাছে তখন আবারও প্রশ্ন করেন, ‘আপনি বদরুলের কী ধরনের শাস্তি চান?’ উত্তরে খাদিজা আবারও বলেন, ‘আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। ’

সাক্ষ্য দেওয়ার পর খাদিজাকে জেরা করেন বদরুলের আইনজীবী সাজ্জাদুর রহমান। তিনি খাদিজাকে প্রশ্ন করেন, ‘বদরুলের সঙ্গে আপনার পরিচয় কিভাবে হয়েছিল?’ জবাবে খাজিদা বলেন, ‘পাঁচ-ছয় বছর আগে সে আমাদের বাড়িতে লজিং মাস্টার হিসেবে থাকত। ’ এরপর বদরুলের আইনজীবী আদালতে ‘বদরুলের সঙ্গে খাদিজার’ যৌথ একটি ছবি প্রদর্শন করেন। এ সময় বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এর প্রতিবাদ জানান।

বদরুলের আইনজীবী খাদিজাকে বলেন, ‘বদরুলের সঙ্গে আপনার ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। ’ খাদিজা বিষয়টি অস্বীকার করেন। আইনজীবী এরপর বলেন, ‘সেদিন যেখানে যখন ঘটনা ঘটেছিল, সেখানে আপনি (খাদিজা) স্বেচ্ছায় বদরুলের সঙ্গে গিয়েছিলেন। ’ খাদিজা এ বিষয়টিও অস্বীকার করেন।

খাদিজার জবানবন্দি ও জেরা শেষ হওয়ার পর আসামিপক্ষ সাফাই সাক্ষ্য দেবে না জানালে আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন। এর আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারা অনুযায়ী আসামি পরীক্ষা করেন আদালত। এ সময় আবারও বদরুল চিত্কার করে বলতে থাকেন, ‘খাদিজা সুখে থাক, আল্লাহর আদালতে তোমার বিচার হবে। আমার ফাঁসি হোক। ’ এরপর তাঁকে পুলিশ ও অন্যরা থামিয়ে দেন।

আদালত থেকে বেরিয়ে এসে নিজের প্রতিক্রিয়ায় বদরুলের আইনজীবী সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার আসামি সম্পূর্ণ নির্দোষ। আশা করি আদালতের কাছ থেকে সে ন্যায়বিচার পাবে, খালাস পাবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘ঘটনার সময় সে অনেকটা নেশাগ্রস্ত ছিল। সে স্বাভাবিক ছিল না। সে তার দোষ স্বীকার করেছে। সে বলেছে, আমি দোষ করছি, কী করেছি বলতে পারব না। সে কারণে আমি মনে করছি সে ন্যায়বিচার পাবে। ’


মন্তব্য