kalerkantho


ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ হত্যা ও সম্পত্তি দখল বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ হত্যা ও সম্পত্তি দখল বেড়েছে

ভূমি নিয়ে বিরোধে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ হত্যা ও তাদের সম্পত্তি দখলের হার বাড়ছে। এ অবস্থায় গাইবান্ধার সেই এসপিকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়েছে, যাঁর আমলে গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালপল্লীতে উচ্ছেদ ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পওয়া গেছে।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নেতা ও মানবাধিকারকর্মীরা। তাঁরা বলেছেন, যে এসপির আমলে সাঁওতালপল্লীতে এমন ঘটনা ঘটেছে, তাঁকে পাঠানো হয়েছে ক্ষৃদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত খাগড়াছড়িতে। এতে সেখানকার লোকজন শঙ্কায় ভুগছে।

গতকাল রবিবার রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনের তৌফিক আজিজ খান মিলনায়তনে আদিবাসী মানবাধিকার প্রতিবেদন-২০১৬-এর মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনাসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভূমির কারণে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ হত্যা ও তাদের সম্পত্তি দখলের হার আগের বছরের চেয়ে ২০১৬ সালে বেড়েছে। ঘরবাড়ি পোড়ানো, নারী নির্যাতন, লুটপাট, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানিও বেড়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের চেয়েও সমতলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ওপর নিপীড়ন ও তাদের জমি দখলের হার বেশি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। অতিথি হিসেবে ছিলেন মানবাধিকারকর্মী ও নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশী কবির, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং প্রমুখ।

প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা। সভাপতিত্ব করেন কাপেং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন রবীন্দ্রনাথ সরেন।

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ২৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। ক্রমাগত জমি দখলের কারণে ৩১ হাজার ৬৯৯ পরিবারের জীবন-জীবিকা হুমকির মধ্যে রয়েছে, যার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের ৬০৬টি এবং সমতলের ৩১ হাজার ৯৩টি পরিবার রয়েছে। সমতলের আদিবাসীদের এক হাজার ২০৮টি বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘যার নেতৃত্বে রাষ্ট্রের মালিক নাগরিকদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়, তাকে বদলি করে দেওয়া হচ্ছে। আমার চাকরি যদি বদলির চাকরি হয়, তাহলে আমাকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বদলি করা শাস্তিমূলক হয় কিভাবে? এ ধরনের ঘটনা নাগরিকদের সঙ্গে বড় ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতারণা। আদিবাসী বঞ্চিত নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, তা ছাড়া এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ’

সঞ্জীব দ্রং বলেন, পার্বত্য অঞ্চলগুলোর মধ্যে খাগড়াছড়িতে আদিবাসীরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার। সেখানে পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। সরকার নিজ দায়িত্বে এ বদলি করেনি। উচ্চ আদালতের আদেশ ছিল ওই এসপিকে প্রত্যাহারের। গাইবান্ধার সাঁওতালপল্লীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ছিল চরম ভয়াবহ। অথচ এর বিচারের জন্য সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি, যেটুকু বলার শুধু উচ্চ আদালতই বলছেন।


মন্তব্য