kalerkantho


যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট

শ্রমিক অধিকার রক্ষায় প্ল্যাটফর্ম থাকা জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বাংলাদেশের সব কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন থাকতে হবে ব্যাপারটা এমন নয়, তবে শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা হয় এ জন্য কারখানাগুলোতে যেকোনো প্ল্যাটফর্ম থাকা প্রয়োজন, যার মাধ্যমে শ্রমিকরা তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারে। গতকাল শনিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ঢাকা অ্যাপারেল সামিট ২০১৭ আয়োজিত সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট।

তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ এক দিনের এই সামিটের আয়োজন করে। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী এই সামিটের উদ্বোধন করেন।

গতকাল বিকেলে বার্নিকাট অ্যাপারেল সামিটের সেমিনার শেষে নিজেই সাংবাদিকদের ডেকে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘তৈরি পোশাক নিয়ে আজকের এই সম্মেলন একটি মাইলফলক। আমরা বাংলাদেশের অংশীদার এবং ক্রেতা হিসেবে পোশাক খাতে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছি। ’

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে বার্নিকাট আরো বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর ক্রেতা প্রতিষ্ঠান অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওর তত্ত্বাবধানে কারাখানা পরিদর্শন হয়। এই পরিদর্শন শেষে এ খাতে ব্যাপক সংস্কার হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে আশুলিয়ায় সাম্প্রতিক শ্রমিকদের কর্মবিরতি কর্মসূচির পর তাদের গ্রেপ্তার এবং কর্মচ্যুতির ফলে মনে হয়েছে এখনো  শ্রমিকদের সঙ্গে সামাজিক সংলাপের জায়গাতে আরো উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।

বার্নিকাট নিজেই সাংবাদিকদের প্রশ্ন করে বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত আগে কখনো আমেরিকার বাজারের অগ্রাধিকার সুবিধা (জিএসপি) না পেলেও এ নিয়ে নিয়মিত ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ সুবিধা বাতিল হওয়ার ফলে পোশাক খাতের কোনো সমস্যাও হয়নি। কিন্তু রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের শ্রমিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের নীতিমালা অনুসারে এই সুবিধা বাতিল করা হয়।  

কয়েকটি ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠান আশুলিয়ার ঘটনার প্রেক্ষাপটে অ্যাপারেল সামিট বর্জন করার ঘোষণা দিলেও তারা আজকের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবারে বার্নিকাট বলেন, বিশ্বের নামিদামি কয়েকটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের আজ এ সামিট বর্জনের কথা থাকলেও সরকারের উদ্যোগের কারণে তারা অ্যাপারেল সামিটে অংশগ্রহণ করেছে। শ্রমিক অধিকারের প্রশ্নে বৃহৎ পাঁচটি বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু সমস্যা সমাধানে সম্প্রতি সরকার, মালিক এবং শ্রমিক একসঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করে। এর ফলে শেষ পর্যন্ত সব ব্র্যান্ডই সামিটে অংশ নিচ্ছে।

 


মন্তব্য