kalerkantho


বিএইউ এসটিআর ড্রায়ার

এক দিনেই পাওয়া যাবে ধান থেকে চাল

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রচলিত পদ্ধতিতে ধানকে চাল এবং চালকে ভাত করে খাবার টেবিলে পৌঁছাতে ১৩ শতাংশই অপচয় হয়। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের দিনে ধান শুকাতে অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে উদ্ভাবন করা হয়েছে বিএইউ-এসটিআর ড্রায়ার (ধান শুকানো যন্ত্র)। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের গবেষক অধ্যাপক ড. চয়ন কুমার সাহা ও তাঁর গবেষকদল এ যন্ত্রটি উদ্ভাবন করেছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে ধান শুকাতে দু-তিন দিন লাগলেও এ যন্ত্র দিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধান শুকিয়ে চাল পাওয়া যায়।

যন্ত্রটি সম্পর্কে প্রকল্পের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. চয়ন কুমার সাহা বলেন, এ ড্রায়ার ব্লোয়ার, ভেতরে-বাইরে খাঁচা, গরম বাতাস পরিবহন পাইপ এবং চুলার সমন্বয়ে গঠিত। দেশের কয়েকটি চাতাল মিলে এ ড্রায়ার পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাতে দেখা গেছে, এ ড্রায়ারে প্রতি ব্যাচে মাত্র তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টায় ৫০০ কেজি ধান শুকানো যাচ্ছে। একটি ড্রায়ারে প্রতিদিন এক টনের বেশি ধান শুকানো যায়। আর ধানবীজের অঙ্কুরোধগমন ক্ষমতাও ঠিক থাকছে ৯০ শতাংশ। চালের গুণাগুণও ঠিক থাকছে।

মাত্র দুজন লোক দিয়েই সম্ভব হচ্ছে এর পরিচালনা।

চয়ন কুমার আরো বলেন, ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগ ইউএসএইড-ইউএসএ এবং ফিড দ্য ফিউচারের আওতায় ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েজ কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় এ প্রযুক্তির গবেষণা শুরু করা হয়। সফলতা আসে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে। যন্ত্রের নামকরণ করা হয় ‘বিএইউ-এসটিআর ড্রায়ার’।

এই উদ্ভাবনী যন্ত্রের দাম মাত্র ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এতে ধান শুকানোর খরচ অনেক কম। সারা দেশে এটি ছড়িয়ে দিলে কৃষকরা যেমন ন্যায্যমূল্য পাবে, সেই সঙ্গে ধানের অনেক অপচয় রোধ হবে। বিএইউ-এনটিআর ড্রায়ারটি স্থানীয় ওয়ার্কশপে স্থানীয় কাঁচামাল দিয়ে খুব সহজে তৈরি করা যায়। বর্তমানে বগুড়ার কামাল মেশিন টুলস, নেত্রকোনার ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ ও দিনাজপুরের উত্তরণ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে যন্ত্রটি প্রস্তুত করা হচ্ছে।

প্রকল্পের ইন-কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল আলম জানান, রোদে যদি ধান শুকাতে এক টাকা খরচ হয়, তাহলে এই যন্ত্রের সাহায্যে শুকাতে ৮৭ পয়সা লাগবে। এতে সময় ও শ্রম দুটিই সাশ্রয় হবে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে এবং অপচয় রোধে এই ড্রায়ার কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। তাপ উৎপাদনের জন্য চারকোল বা কয়েল খড়ি ব্যবহার করা হয়, ফলে ধোঁয়া বের না হওয়ায় পরিবেশেরও তেমন ক্ষতি হয় না।


মন্তব্য