kalerkantho


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বললেন

নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে গতি আসবে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরীকে কানাডা বাংলাদেশে ফেরত পাঠালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বিশেষ গতি আসবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। গতকাল শনিবার সকালে ঢাকার একটি হোটেলে ‘কানাডা-বাংলাদেশ সম্পর্কের ৪৫ বছর এবং উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

ঢাকায় কানাডীয় হাইকমিশন এবং দি ইনস্টিটিউট ফর পলিসি, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড গভর্নেন্স (আইপ্যাগ) যৌথভাবে ওই আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর মধ্য দিয়ে অপরাধের দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান হবে। বাংলাদেশ-কানাডা উভয়েই অপরাধের দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসানে বিশ্বাস করে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কানাডীয়দের বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব ও অনুকূল পরিবেশের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি উভয় দেশের স্বার্থে বিশেষভাবে এ দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, পরিবহন, খাদ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, হালকা প্রকৌশল, জাহাজ নির্মাণ এবং আতিথেয়তা খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, গণতন্ত্র উৎপাদিত কোনো পণ্য নয়। একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও চর্চার মধ্য দিয়ে একে যেতে হয়। আর আইনের শাসন, তা আমাদের সবারই মানা উচিত। তিনি আশা করেন, ২০২২ সালে বাংলাদেশ ও কানাডা তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তির বছরে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে আরো উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাবে।

কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা) দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশে কানাডার সাবেক হাইকমিশনার রবার্ট ম্যাকডুগাল বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় কানাডা উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলা কানাডার জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ। বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও কানাডা উদ্বিগ্ন। দেশে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন।

সুশাসন ইস্যুতে রবার্ট ম্যাকডুগাল টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাজ, গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ, উন্মুক্ততা ও অহিংসতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, অগ্রগতি সত্ত্বেও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিতে পারে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার যে লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে, কানাডা তা সমর্থন করে। তবে শাসনব্যবস্থার মানোন্নয়ন ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নাও হতে পারে। সুশাসন কানাডা-বাংলাদেশ সহযোগিতার অন্যতম ভিত্তি।


মন্তব্য