kalerkantho


রাজশাহী মহানগর বিএনপি

নেতৃত্বে ফিরতে মরিয়া মিনু কোণঠাসা বুলবুল

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নেতৃত্বে ফিরতে মরিয়া মিনু

কোণঠাসা বুলবুল

রাজশাহী মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি হয়েছে গুমট পরিবেশ। সভাপতির পদে থাকলেও খর্ব হয়েছে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের কর্তৃত্ব।

সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনকে সঙ্গে নিয়ে মিজানুর রহমান মিনুর অনুসারীরা দখলে রেখেছে দলীয় কার্যালয়। বুলবুলকে বাইরে রেখেই দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে মিনুর মাধ্যমে। সর্বশেষ একুশে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি পালনেও স্পষ্ট ছিল বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভেদ। সভাপতি বুলবুল কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন অনেকটাই পৃথকভাবে। এ অবস্থায় রাজশাহীর রাজনীতিতে এক দশক পর ফের মিজানুর রহমান মিনু নেতৃত্বে ফিরছেন বলে গুঞ্জন চলছে।

দলীয় সূত্র জানায়, ক্ষমতার পটপরিবর্তনে ২০০৭ সাল থেকেই মিজানুর রহমান মিনুর অবস্থান নড়বড়ে হতে থাকে। এর পরও ২০০৯ সালে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি করা হয় মিনুকেই। এরপর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের সমর্থন না পাওয়াসহ নানা ঘটনায় পেছনে পড়ে যান তিনি। গত ২৭ ডিসেম্বর কেন্দ্র থেকে ঘোষিত রাজশাহী মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি থেকে তিনি বাদ পড়লে অনেকটাই অস্তিত্ব সংকটে পড়েন।

এ অবস্থায় শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে মিনুর অনুসারীরা দলীয় কার্যালয় দখলে নিয়ে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরির। আর সব কিছু মিলিয়ে বুলবুল সমর্থকরা পড়েছে বিপাকে। পদে থেকেও কর্তৃত্ব পাচ্ছে না তারা।

দলের এ বিভেদ সম্পর্কে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, ‘দলের সবাইকে নিয়েই কাজ করতে হবে। আমরা একসঙ্গেই কাজ করতে চাই। কিন্তু এখনো কিছু নেতাকর্মী দলে বিভেদ তৈরিতে সচেষ্ট। এসব নিয়ে কেন্দ্রেও জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত বিষয়টির সমাধান হবে। ’

 

সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কেনো ভেদাভেদ নেই, কোন্দলও নেই। কমিটি ঘোষণার পর দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলেও তা এখন নিরসন হতে চলেছে। ’

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ভুল বুঝিয়ে ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করেছিল। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতির পর চেয়ারপারসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি সব ঠিক করে দেবেন বলে সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন। ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। ওই কমিটিতে রাজশাহী বিএনপির শীর্ষ নেতা সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান মিনুসহ দলের ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ’

নেতাকর্মীরা জানায়, ২০০৯ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় মিনুকে বাদ দিয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। আর তাতে মহানগরের রাজনীতিতেও পেছনে পড়ে যান মিনু। ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনে পুনরায় বুলবুল বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হলে চূড়ান্তভাবে আঘাত লাগে মিনু সমর্থকদের। এরই মধ্যে সাবেক সভাপতি মিনুকে বাদ দিয়ে গত ২৭ ডিসেম্বর মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শফিকুল হক মিলনের নাম কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করে আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। সে পরিস্থিতিতেই মিনু সমর্থকরা ঘুরে দাঁড়াতে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে। আস্থাভাজন শফিকুল হক মিলনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি দলীয় কার্যালয় দখল করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণে দেখা গেছে মিনু ও মিলন সমর্থকদের। পরে বুলবুল নিজ অনুসারীদের নিয়ে পৃথকভাবে শহীদ মিনারে যান।

দলীয় সূত্র মতে, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি পদ থেকে মিনু বাদ পড়ায় একাংশ চরম ক্ষুব্ধ। তারা ২৮ ডিসেম্বর রাজশাহী মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এরপর ১৮ ফেব্রুয়ারি তালা খুলে দখল নেয় মিনুর অনুসারীরা। অদ্যাবধি নতুন কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বহিষ্কৃত মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকতে পারেননি। সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনকে সঙ্গে নিয়েই মিনু অনুসারীরা কার্যালয়টি দখলে রেখেছে। সেখানে তারা কয়েকটি সভা করেছে। কিন্তু বুলবুলকে ডাকা হয়নি সেসব সভায়। এ নিয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে দ্বিধাবিভক্তি।


মন্তব্য