kalerkantho


রানা প্লাজা ধসের ৪৬ মাস

দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দোষীদের শাস্তির দাবিতে

মানববন্ধন বিক্ষোভ

সাভারে রানা প্লাজা ধসের পর ৪৬ মাসেও ভবন মালিক সোহেল রানাসহ দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি রানা প্লাজা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

একই সঙ্গে শিল্প ও শ্রমিকের স্বার্থে বাঁচার মতো মজুরি ও প্রকৃত ট্রেড ইউনিয়নের দাবি জানানো হয়।

কর্মসূচিতে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনের সাভার থানা শাখার সম্পাদক আলম মাতব্বর। বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার, রানা প্লাজা শাখার সদস্য রূপালী আক্তার, নিহত শ্রমিক ফজলে রাব্বির মা রাহেলা বেগম, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সমাজকল্যাণ সম্পাদক প্রদীপ রায়সহ স্থানীয় নেতারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রানা প্লাজা ধসের ৪৬ মাসেও সরকার দোষী ভবন মালিক সোহেল রানাসহ কারখানার অন্যান্য মালিক, দোষী সরকারি কর্মকর্তাদের শাস্তি নিশ্চিত করেনি। অভিযুক্ত সবার শাস্তি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করা যাবে না। হাজার শ্রমিক প্রাণ হারালেও সরকার ও মালিকপক্ষের কাছে যেন তাদের মূল্য নেই। তাজরীনে শত শ্রমিককে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে মালিক নিরাপদে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। হাজার শ্রমিকের প্রাণ ও স্বপ্ন কেড়ে নিয়ে সোহেল রানাসহ অন্য দোষীরা আইনের ফাঁক গলে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেকে জামিনে আছেন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসের পর শ্রমিক ও জনগণ আশা করেছিল সরকার উদ্যোগী হয়ে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধে উদ্যোগ নেবে। কিন্তু দোষীরা এখনো শাস্তি পায়নি।

বক্তারা বলেন, রানা প্লাজা, তাজরীনসহ দুর্ঘটনার নামে কাঠামোগত হত্যা এবং দোষীদের শাস্তি না হওয়া বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য একটি অশুভ লক্ষণ। এতে একদিকে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না, অন্যদিকে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছে দোষীরা। বক্তারা শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, শ্রমিক হত্যাকারীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

বক্তারা গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সরকারি ঘোষণার নিন্দা ও প্রতিবাদ করে বলেন, পোশাক শ্রমিকরা যে মজুরি পান তাতে তাঁদের জীবন চলা কঠিন। সে কথা বলায় শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনের ওপর নেমে এসেছে অত্যাচার, দমন-পীড়ন। এর ওপর গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি শ্রমিকদের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলবে। বাসাভাড়া, জিনিসপত্র, যাতায়াত খরচসহ সব কিছুর দাম বাড়বে। সরকারের প্রতি অবিলম্বে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা প্রত্যাহার, মজুরি বোর্ড গঠন করে ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ, আশুলিয়াসহ সর্বত্র সব শ্রমিক সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা দেওয়া বন্ধের দাবি জানান নেতারা।


মন্তব্য