kalerkantho


সিলেটে বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব

‘বাংলা ভাগ হলেও সাহিত্যকে দেখতে হবে অখণ্ডভাবেই’

সিলেট অফিস   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



‘বাংলা ভাগ হলেও সাহিত্যকে দেখতে হবে অখণ্ডভাবেই’

দেশভাগের কারণে বাংলা দুই ভাগ হলেও বাংলা সাহিত্যকে আলাদাভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন বাংলাদেশ ও ভারতের বিশিষ্ট লেখকরা। তাঁদের মতে, বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ কিংবা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বাংলাভাষীদের সাহিত্যকে অখণ্ডভাবেই দেখতে হবে।

সিলেটে ১০ দিনের বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসবের তৃতীয় দিনে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয় তিন দিনের কালি ও কলম সাহিত্য সম্মেলন। এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও ভারতের বিশিষ্ট লেখকরা এ মত ব্যক্ত করেন।

কালি ও কলম সাহিত্য সম্মেলনের প্রথম দিন সাহিত্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে চারটি সেমিনার হয়। সন্ধ্যার পর প্রতিদিনের মতো সাংস্কৃতিক আয়োজন উপস্থিত শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।

সকাল সাড়ে ১০টায় সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চে সাহিত্য সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন কালি ও কলমের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য লুভা নাহিদ চৌধুরী। এ ছাড়া বক্তব্য দেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রথিতযশা মঞ্চ অভিনেত্রী ও নির্দেশক শাঁওলী মিত্র, খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারপারসন বেগম আকতার কামাল ও অমিয় দেব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাসান আজিজুল হক বলেন, আজকের যে সম্মেলন হচ্ছে তাকে সামগ্রিকভাবে দেখা দরকার।

বাংলা সংস্কৃতি কিংবা বাংলা সাহিত্যকে খণ্ডিতভাবে ভাবতে পারেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য, সাতচল্লিশের দেশভাগের পর অনেককে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভিটামাটি ছাড়তে হয়েছে। আমার জন্ম পশ্চিমবঙ্গে। সেখানকার প্রতি আমার দরদ আছে। বহু বছর ধরে আমি বাংলাদেশে বাস করছি এবং সম্ভবত আমৃত্যু এখানে থাকব। রাজনৈতিক কারণে এই বিভাজন আমি কাউকে মেনে নিতে দেখিনি। ’

হাসান আজিজুল হক বলেন, ‘সাহিত্যকে পূর্ব পাকিস্তানের সাহিত্য, বাংলাদেশের সাহিত্য, পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য—এভাবে আলাদা করে আমি দেখতে পারি না। ’ 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ‘সমকালীন বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন হাসান আজিজুল হক। কবি আসাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে অংশ নেন ওপার বাংলার কবি অনিতা অগ্নিহোত্রী, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক সুরেশ রঞ্জন বসাক।

মধ্যাহ্ন বিরতির পর বিকেল ৩টায় একই মঞ্চে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান। অমিয় দেবের সভাপতিত্বে ‘সমাজবাস্তবতা ও বাংলাদেশের সাহিত্য’, সনত্কুমার সাহার সভাপতিত্বে ‘সাহিত্যে ঐতিহ্যচেতনা ও স্বরূপ সন্ধান’ এবং ওয়াসি আহমেদের সভাপতিত্বে ‘সাহিত্যে নারীজীবন’ শীর্ষক পৃথক তিনটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই বাংলার খ্যাতিমান লেখক, কবি ও গবেষকরা অংশ নেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় উৎসবস্থলের হাছন রাজা মঞ্চে ‘সূচনা অধিবেশন’ শুরু হয়। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়েরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ও সাবেক প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী।

প্রধান অতিথি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘জঙ্গি আক্রমণ আমাদের সংস্কৃতির প্রবাহকে যে বন্ধ করতে পারবে না তার প্রমাণ আজকের সিলেট। ’ তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক কর্মীরা যখন হিসাব মেলানোর চেষ্টা করে তখন সংস্কৃতিকর্মীরা জনগণের মনের ভাষা বুঝে পদক্ষেপ নেয়। সে জন্য সংস্কৃতিকর্মীরা হোঁচট খায় না, আর রাজনৈতিক কর্মীরা দালাল হয়ে যায়। এ দেশে কখনো সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সূচনা অধিবেশনের পরপরই শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে রাগাশ্রয়ী বাংলা গান পরিবেশন করেন বর্ণালী চট্টোপাধ্যায়। এ ছাড়া সংগীত পরিবেশন করেন সুবীর নন্দী, ঝুমা খন্দকার, জীবনমুখী গানের দল ও কৃষ্ণকলি।

আজকের অনুষ্ঠানমালা : আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চে শুরু হবে কালি ও কলম সাহিত্য সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম। সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে একই মঞ্চে থিয়েটার আর্ট ইউনিট পরিবেশ করবে মঞ্চনাটক ‘আমিনা সুন্দরী’। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে হাছন রাজা মঞ্চে গম্ভীরা পরিবেশন করবেন আতাউর রহমান মিন্টু ও তাঁর দল। এ ছাড়া সেকালের বাংলা গান পরিবেশন করবেন ইফ্ফাত আরা দেওয়ান, নজরুলসংগীত পরিবেশন করবেন খায়রুল আনাম শাকিল, লোকসংগীত পরিবেশন করবেন লাবিক কামাল গৌরব, নবনীতা চৌধুরী ও বেবি দেওয়ান।

 


মন্তব্য