kalerkantho


সবার আগে পেতে পারে টেলিটক

কাজী হাফিজ   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সবার আগে পেতে পারে টেলিটক

তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) মেবাইল সেবার লাইসেন্সের মতো ফোরজি (চতুর্থ প্রজন্ম) লাইসেন্সও সবার আগে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের। টেলিটকের মাধ্যমেই এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করতে পারে সরকার।

বিটিআরসি সূত্র জানায়, সব মোবাইল অপারেটরের এখনই ফোরজি সেবা চালুর সক্ষমতা তৈরি হয়নি। এর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম নিলামও সহসা সম্ভব নয়। আবার সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দ্রুত এ সেবা চালুর তাগিদ রয়েছে। এই বাস্তবতায় প্রথমে টেলিটকের মাধ্যমে সীমিত পর্যায়ে এ সেবা চালুর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। ফোরজি লাইসেন্সের নীতিমালা প্রস্তুতের জন্য আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নীতিমালা প্রস্তুত হলেই লাইসেন্স দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করা হতে পারে।

এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে এ লাইসেন্স দেওয়া হতে পারে। লাইসেন্সের খসড়া নীতিমালা দ্রুত প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

থ্রিজি লাইসেন্সের মতো এবারও পরীক্ষামূলকভাবে আগে টেলিটকে এ লাইসেন্স দেওয়া হবে কি না—এ প্রশ্নে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কোনো প্রতিযোগিতা ছাড়াই থ্রিজি মোবাইল সেবার লাইসেন্সের জন্য ২১০০ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম নিলাম হয়। আটটি ব্লকে ২.১ ব্যান্ডের মোট ৪০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম নিলামের জন্য বরাদ্দ রাখা হলেও চার হাজার ৮১ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয় পাঁচটি ব্লকের ২৫ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম। অবিক্রীত থেকে যায় ওই ব্যান্ডের ১৫ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম। গত তিন বছর ধরে ওই স্পেকট্রাম নিলামের চেষ্টা চলছে।

ওই নিলামে সর্বোচ্চ দুটি ব্লকের ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম কিনে নেয় গ্রামীণফোন। নিলামে অংশ নেওয়া অন্য তিন অপারেটর—এয়ারটেল, রবি ও বাংলালিংক কিনে নেয় একটি করে ব্লকের মোট ১৫ মেগাহার্টজ। স্পেকট্রাম বরাদ্দ নেওয়ার পর ওই বছরই বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের থ্রিজি সেবা চালু হয়। তার আগে ২০১২ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিটকের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো থ্রিজি মোবাইল প্রযুক্তি সেবার পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

কিন্তু নীতিমালায় সরকারি-বেসরকারি সবার জন্য অভিন্ন বিধান রাখা হলেও টেলিটক আজ পর্যন্ত থ্রিজির জন্য বরাদ্দ পাওয়া স্পেকট্রাম চার্জ পরিশোধ করেনি। গত বছর জুন পর্যন্ত এ বিষয়ে টেলিটকের কাছে সরকারের পাওনার পরিমাণ দাঁড়ায় দেড় হাজার কোটি টাকার ওপরে।

বিটিআরসি সূত্র জানায়, ফোরজি লাইসেন্সের নীতিমালায় স্পেকট্রামের ক্ষেত্রে ব্যান্ড স্পেসিফিকেশন প্রয়োজন হবে না। থ্রিজি সেবার জন্য ২১০০ ব্যান্ড এবং টুজির জন্য ৯০০ ও ১৮০০ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম করাদ্দ দেওয়া হলেও এসব ব্যান্ডের স্পেকট্রামের মাধ্যমেও ফোরজি সেবা দেওয়া যাবে। সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে ৭০০ ব্যান্ডের স্পেকট্রামের মাধ্যমে ফোরজি সেবা চালু করা। কিন্তু এর আগেই মোবাইল অপারেটররা ২১০০, ৯০০ অথবা ১৮০০ ব্যান্ডের স্পেকট্রামের মাধ্যমে এ সেবা চালু করতে পারবে।

এর আগে মোবাইল অপারেটররা প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা না পাওয়াসহ আরো কিছু সমস্যার কথা বলে স্পেকট্রাম নিলামে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকে। ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল স্পেকট্রাম নিলামের দিন ধার্য করা হলেও সে সময় বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে রবির প্রধান অংশীদার আজিয়াটা গ্রুপের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট ও গ্রুপ সিইও দাতো শ্রি জামালউদ্দিন ইব্রাহিম, গ্রামীণফোনের প্রধান অংশীদার টেলিনর গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও গ্রুপ সিইও জন ফ্রেডরিক বাকসাস, বাংলালিংকের প্রধান অংশীদার ভিমপেলকমের সিইও ইওলানদার, এয়ারটেল বাংলাদেশের মূল কম্পানি ভারতীয় এয়ারটেলের চেয়ারম্যান সুনীল মিত্তাল যৌথভাবে ওই বছরের ১ মার্চ বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়ে দেন নিলামে অংশ নেওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব না।

রবি এ বিষয়ে গত বছর ৩ মার্চ ‘রিকোয়েস্ট ফর ক্লারিফিকেশন ফোরজি/এলটিই সার্ভিসেস আন্ডার থ্রিজি লাইসেন্সেস’ শিরোনামে বিটিআরসিকে একটি চিঠি দেয়। এ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসি জানিয়ে দেয়, ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গেও ফোরজি/এলটিই সেবা দেওয়া যাবে। তবে এ জন্য অনুমতি নিতে হবে।

চলতি মাসের শুরুতেই টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সব ব্যান্ডের স্পেকট্রাম ব্যবহারে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা চেয়েছেন টেলিনর গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও সিইও সিগভে বেক্কে।

অন্যদিকে আরো উন্নত মোবাইল ফোন সেবার জন্য ফোরজি এবং এলটিইর জন্য প্রয়োজনীয় ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম বা তরঙ্গ নিলামের প্রস্তুতিমূলক কাজ গত বছর থেকেই চালিয়ে আসছে বিটিআরসি। এর আগে এ তরঙ্গের মূল্য ও প্রয়োজনীয়তা না বুঝে যাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল তাদের কাছ থেকে তা ফেরত নেওয়ার কাজ শুরু হয়।


মন্তব্য