kalerkantho


পুলিশের কৃতিত্ব!

হায়দার আলী বাবু, লালমনিরহাট   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০




পুলিশের

কৃতিত্ব!

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিচয়পত্রধারী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মিজানুর রহমান ওরফে মঞ্জু আলীকে (৩২) ‘মাদক কারবারি’ হিসেবে কারাগারে পাঠিয়েছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।

পুলিশ দাবি করেছে, মঞ্জুর কাছে এক কেজি গাঁজা পাওয়া গেছে। তবে সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ পুলিশের এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলছেন, পুলিশের এটি সাজানো ঘটনা। ‘মাদকবিরোধী কৃতিত্ব’ নিতে পুলিশ এটি করতে পারে বলে মনে করেন তাঁরা।

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মঞ্জু আলীকে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতের মাধ্যমে ওই দিনই তাকে লালমনিরহাট জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের সন্তান মঞ্জু আলীর জামিনের জন্য গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আদালতে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। কেবল লালমনিরহাটের পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে একটি লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মঞ্জু কালীগঞ্জ উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীখাতা গ্রামের প্রয়াত আইয়ুব আলীর ছেলে। তার মা মাহিলা বেগম মিলি জানান, শিশু অবস্থায় মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণে মঞ্জু বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হয়ে পড়ে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিচয়পত্রেও মঞ্জুর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তার আইডি নম্বর ১৯৮৪৫২১৩৯৩৫৬২৮৫৪৪-০৩।

মামলার এজাহারে কালীগঞ্জ থানার এএসআই বসন্ত রায় দাবি করেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়নের কামারপাড়া বাজারের শুভজিৎ এন্টারপ্রাইজের উত্তর গলিতে তিনিসহ পুলিশের একটি দল গেলে মঞ্জু একটি ব্যাগসহ পালানোর চেষ্টা করে। তখন মঞ্জুকে আটক করা হয়। ওই ব্যাগে এক কেজি গাঁজা পাওয়া গেছে।

তবে মঞ্জু আলীর মা দাবি করেন, তাঁদেরই গ্রামের রাখি ইসলাম ঘটনার দিন সকালে মঞ্জুকে ডেকে নিয়ে যায় তার (রাখি) বাড়িতে। পরে খোঁজ করলে এলাকাবাসী জানায় মঞ্জুকে ডিবি পুলিশ রাখির বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গেছে। এরপর ছেলের পরিচয়পত্র নিয়ে তিনি কালীগঞ্জ থানায় যান। কিন্তু পুলিশ তাকে না ছেড়ে উল্টো গাঁজা ব্যবসায়ী সাজিয়ে আদালতে পাঠায়।  

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মঞ্জু আলীর মা বলেন, ‘মুই ছাড়া উয়র দেখি কাও নাই। সেই পাগলাটাক পুলিশ ধরি জেলত পাঠাইছে। ’

গত বুধ ও বৃহস্পতিবার ওই গ্রামে গিয়ে রাখিকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তার বাড়ির প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।

দলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মেফাজ্জল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তাকে আমি খুব ভালো করে চিনি। সে ছোটবেলা থেকেই মানসিক প্রতিবন্ধী। ’

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার শফিকুল ইসলাম আলম বলেন, ‘সবাই জানে মঞ্জু মানসিক প্রতিবন্ধী। সে পথে-ঘাটে ঘুরে বেড়ায়। যা পায় তাই খায়। ’ তাকে ধরে মাদক মামলায় পুলিশ কেন কারাগারে পাঠাল সে প্রশ্ন রাখেন ইউপি চেয়ারম্যান। তিনি তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

লালমনিরহাট সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘যেহেতু তিনি (মঞ্জু) স্বীকৃত বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, সুতরাং মাদক কেনাবেচার জ্ঞান থাকার কথা নয় ওই ব্যক্তির। ’

লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক বলেন, ‘বিষয়টি প্রথম সাংবাদিকদের কাছ থেকে আমি জানতে পেরেছি। এতে কারো গাফিলতি পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য