kalerkantho


রংপুরে দুদক চেয়ারম্যান

‘দুর্নীতি সর্বগ্রাসী, আমিও খেই হারিয়ে ফেলি’

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



‘দুর্নীতি সর্বগ্রাসী, আমিও খেই হারিয়ে ফেলি’

দুর্নীতি সর্বগ্রাসী—এমন মন্তব্য করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ‘অনেক সময় আমি নিজেও খেই হারিয়ে ফেলি। তবে দুর্নীতিবাজদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

কারণ আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। ’

গতকাল শুক্রবার রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার শঠিবাড়ীতে শিক্ষার্থীদের দুর্নীতি প্রতিরোধে উদ্বুদ্ধকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ইকবাল মাহমুদ এসব কথা বলেন।

শঠিবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ সভায় দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান আরো বলেন, সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আবদুল কাদের খান যদি অবৈধ সম্পদের মালিক বনে থাকেন তদন্তে প্রমাণিত হলে তাঁকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।  

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘তোমরাই জাতির ভবিষ্যৎ। তোমাদের দিকে জাতি তাকিয়ে আছে। তোমাদেরই একদিন দেশের হাল ধরতে হবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সবাই পরিচ্ছন্ন না হলে কখনোই দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব নয়। ’

এ সময় দুদক চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের জানান, রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আবদুল জলিল মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রমাণিত হলে কেউ ছাড় পাবেন না।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশের সর্বত্র উন্নয়ন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বহুবিধ কাজ হচ্ছে, কিন্তু আমাদের মূল্যবোধেরও পতন হচ্ছে। ’

দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রংপুর আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) ড. শামসুল আরেফিন, রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক আবদুল আজিজ র্ভূইয়া, রংপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রংপুরের উপপরিচালক মোজাহার আলী সরদার, শঠিবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হরেন্দ্র নাথ সাহা প্রমুখ।

পরে শিক্ষার্থীদের দুর্নীতি প্রতিরোধে শপথ বাক্য পাঠ করান এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।


মন্তব্য