kalerkantho


কালের কণ্ঠে প্রতিবেদন প্রকাশের পর

শিকলমুক্ত হলেন সেই দুই বোন

জামালপুর প্রতিনিধি   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



শিকলমুক্ত হলেন

সেই দুই বোন

বৃহস্পতিবার শিকলবন্দি দুই বোনকে মুক্ত করেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক। ছবি : কালের কণ্ঠ

অবশেষে প্রায় দেড় যুগ ঘরে বন্দি থাকার পর শিকলমুক্ত হয়েছেন মানসিক ভারসাম্যহীন দুই বোন পাপড়ি (৩৩) ও অনন্যা (৩০)। বন্দি থাকার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেখানে ছুটে যান জামালপুর জেলা প্রশাসক মো. শাহাবুদ্দিন খান। তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় দুই বোনকে শিকলমুক্ত করেন। একই সঙ্গে তাঁদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব নেন।

এ ছাড়া দুই বোনের উন্নত চিকিৎসার জন্য নরসিংদীর এসবি গ্রুপের মালিক হাজি বশির আহম্মেদ,  যশোরের ট্রাক ড্রাইভার জাহাঙ্গীর আলম ও  কয়েকজন প্রবাসী এরই মধ্যে আর্থিক সহযোগিতা করতে চেয়েছেন।

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের আদারভিটা গ্রামে মানসিক ভারসাম্যহীন দুই বোনকে প্রায় দেড় যুগ শিকলে বেঁধে রাখা হয়। মা-বাবার মৃত্যুর পর থেকে সংসারের হাল ধরা ছোট ভাই সম্রাট চিকিৎসা ও পরিচর্যা করতে পারছিলেন না। এই নিয়ে গত বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠ’র শেষ পৃষ্ঠায় ‘দেড় যুগ ধরে শিকলে বাঁধা দুই বোন’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাবা আব্দুল মান্নান উপজেলা পরিসংখ্যান বিভাগের ছোট পদে চাকরি করতেন। আদারভিটা উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ১৯৯৯ সালে পাপড়ি খাতুন আর ২০০১ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় অনন্যা খাতুনের আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাঁরা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।

বন্ধ হয় লেখাপড়া। পাবনা মানসিক হাসপাতালে কয়েক মাস রেখে চিকিৎসাও করানো হয়। এর পরও ভালো না হওয়ায় সামাজিকভাবে বিব্রত হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে ২০০৪ সাল থেকে পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয় তাঁদের।

ছোট ভাই সম্রাট মিয়া বলেন, ‘পত্রিকায় নিউজ ছাপা হওয়ার পর লোকজন বাড়িতে এসে এবং মুঠোফোনে সহযোগিতা করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। আমার দুই বোন আবার চিকিৎসাসেবা পেতে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসক এসে চিকিৎসাসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। ’

জেলা প্রশাসক মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘তাঁদের পরিবারে কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি নেই। তাঁদের দুই ভাই রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সম্রাট মিয়া সাংসারিক কাজকর্মসহ দুই বোনের দেখাশোনা করেন। দুই বোনকে জাতীয় মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে। সেখানে তাঁদের দেখাশোনা করার জন্য একজন নারী সদস্য দরকার। সে জন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বলেছি। আগামী মাসেই তাঁদের চিকিৎসার জন্য সেখানে পাঠানো হবে। এ ছাড়া পরিবারটি যাতে সচ্ছলভাবে চলতে পারে সে ব্যবস্থা করা হবে। ’

 


মন্তব্য