kalerkantho


ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত

চীন ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেই, ন্যায্য সুযোগ চাই

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বাংলাদেশে ভারত বা চীনের মতো আঞ্চলিক বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগিতা করছে না  বলে দাবি করেছেন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। তবে একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে অন্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও ন্যায্য নীতি অনুসরণের তাগিদ দেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশে (আইইউবি) ‘বাংলাদেশে চীন, ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র : প্রতিযোগিতামূলক সহযোগিতার বিকাশ সাধন’ শীর্ষক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এ তাগিদ দেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের ওই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পূর্বনির্ধারিত সফরে ঢাকায় পৌঁছান ভারতের পররাষ্ট্রসচিব ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ওই দেশগুলো সবাই বাংলাদেশের মঙ্গল কামনার কথা বললেও বিভিন্ন ইস্যুতে ভূরাজনৈতিক স্বার্থে পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। বিশেষ করে, আমেরিকান কম্পানিগুলোর জন্য সুযোগ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য এটি প্রমাণ করে। কারণ ভারতীয়, চীনাসহ অনেক বিদেশি কম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসায় এগিয়ে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত গতকাল আইইউবির সম্মেলনে বক্তব্যের শুরুতে বলেন, ‘বাংলাদেশে ভারত বা চীন কারো সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগিতা করছে না। আমি বিশ্বাস করি, ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—সবাই বাংলাদেশে একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও স্থিতিশীল সমাজের স্বপ্ন লালন করে। ’

এরপর তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশকে তার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যগুলো অর্জনে একাধিক দেশের ভালো ভাবনা ও সম্পদ প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র এ দেশে অন্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে স্বাগত জানায়।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও ন্যায্য নীতি অনুসরণের তাগিদ দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন অন্য দেশগুলোর সহযোগিতাকে স্বাগত জানায়, তখন আমেরিকান কম্পানিগুলো বিশ্বজুড়ে প্রকল্পগুলোতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগকেও স্বাগত জানায়।

তিনি বলেন, স্পষ্ট, স্বচ্ছ এবং প্রয়োগযোগ্য বিধি ও প্রবিধানসম্পৃক্ত ব্যবসা পরিবেশ থাকতে হবে। আমেরিকান কম্পানিগুলোর মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করতে হবে যে তাদের প্রস্তাবগুলো ন্যায্যতার সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতে তাদের অংশীদাররা চুক্তিগুলো বাস্তবায়ন করবেন।

বার্নিকাট বলেন, আমেরিকান কম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসায় বেশ আগ্রহী। আমেরিকান কম্পানিগুলো যখন নতুন কোনো বাজারে ঢোকে তখন তারা সেখানে ব্যাপক পরিসরে দক্ষতা, পুঁজি ও প্রযুক্তি নিয়ে আসে। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানিগুলো তাদের স্থানীয় কর্মশক্তিকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং তাদের কর্মীদের আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করছে।

বার্নিকাটের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক শ্রম, পরিবেশ ও গুণগত মানও বজায় রাখে। এই মান স্থানীয় শিল্পেও ছড়িয়ে পড়ে। এটি বাংলাদেশি কম্পানিগুলোকেও বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতা করতে ও আরো বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সহায়তা করে।

বার্নিকাট বলেন, দক্ষিণ এশিয়া এখনো অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে কম একীভূত অঞ্চলগুলোর অন্যতম। পর্যাপ্ত আঞ্চলিক সংযোগের অভাবে বাংলাদেশ ও এর প্রতিবেশীরা গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারাচ্ছে। তবে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও উত্পাদনের আঞ্চলিক কেন্দ্র হওয়ার মতো সব অর্থনৈতিক ভিত্তি বাংলাদেশের আছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামনে থাকা বাধাগুলো দূর করতে সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তিনি। অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও এর প্রতিবেশীদের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখারও আশ্বাস দেন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে আরো বক্তব্য দেন আইইউবি পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রাশেদ চৌধুরী, উপাচার্য ড. এম ওমর রহমান, স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সের ডিন ড. মাহবুব আলম, জিএসজি কর্মসূচির প্রধান ড. ইমতিয়াজ এ হুসেইন প্রমুখ।


মন্তব্য