kalerkantho


আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা

খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন মুফতি হান্নানের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রায় ১৩ বছর আগে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলায় তিন ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনার মামলায় হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় মুফতি হান্নানের পক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড নাহিদ সুলতানা রিভিউ আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে মৃত্যুদণ্ডের সাজা থেকে খালাস চাওয়া হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য করা রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তির ওপর নির্ভর করবে রায় কার্যকর। রিভিউ আবেদন খারিজ হলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করা ছাড়া আর কোনো আইনগত পথ খোলা থাকবে না। রাষ্ট্রপতি আবেদন খারিজ করলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বাধা থাকবে না। তবে সে ক্ষেত্রে কারাবিধি অনুসরণ করতে হবে। কারাবিধি অনুযায়ী ২১ দিনের আগে নয়, ২৮ দিনের পরে নয়—এ সময়ের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রায় কার্যকর করা যাবে না। এ রিভিউ আবেদনের ওপর কবে শুনানি হবে তা নির্ভর করছে রাষ্ট্রপক্ষ ও আদালতের ওপর। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের নজরে আনলেই কেবল দ্রুত শুনানি হতে পারে।

২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে গ্রেনেড হামলায় আনোয়ার চৌধুরীসহ অনেকে আহত হন। নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন। পরে পুলিশ বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে। ২০০৭ সালের ৩১ জুলাই মুফতি হান্নানসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ও মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন মুফতি হান্নানসহ কারাবন্দি আসামিরা। হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন। ওই বছরের ২৮ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। আসামিপক্ষ আপিল করলে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এ অবস্থায় রিভিউ আবেদন করলেন মুফতি হান্নান।


মন্তব্য