kalerkantho


দত্তক নিতে আদালতে দুজনের আবেদন

নবজাতকটির নাম ‘একুশ’

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নবজাতকটির

নাম ‘একুশ’

চট্টগ্রাম মহানগরীর কর্নেলহাট এলাকায় নালা থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া নবজাতকটির নাম রাখা হয়েছে ‘একুশ’। একুশের প্রথম প্রহরের আগ মুহূর্তে রাত ৯টার দিকে জন্ম নেওয়া শিশুটিকে একটি ক্লিনিকের বাথরুম থেকে নালায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

ছেলেশিশুটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে হাত-পা নেড়ে আর কান্নায় চোখ ভিজিয়ে মিতালি করছে। ডাক্তার-নার্সদের নিবিড় পরিচর্যায়ই রয়েছে জন্মপরিচয়হীন ‘একুশ’।

শিশুটিকে দেখতে গতকাল বৃহস্পতিবার হাসপাতালে যান আকবর শাহ থানার ওসি আলমগীর মাহমুদ। চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপ শেষে তাঁদের সামনেই তিনি শিশুটির নাম রাখেন ‘একুশ’। মা-বাবা যদি কখনো হাজির হয়ে সন্তান নিতে চান কিংবা নতুন নাম রাখেন তখন কী হবে—জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, যে মা-বাবা সন্তানের পরিচয় স্বীকার করেননি কিংবা হত্যার উদ্দেশ্যে নালায় ফেলে দিয়েছেন, তাঁরা সন্তানের দাবি নিয়ে পুলিশের সামনে আসবেন, এটা বিশ্বাস করা কঠিন। এরপরও তাঁরা যদি কখনো আসেন, তাহলে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

ওসি আলমগীর মাহমুদ বলেন, ‘একুশকে দত্তক নিতে চট্টগ্রামের আদালতে দুই ব্যক্তি আবেদন করেছেন বলে শুনেছি। তাঁদের একজন ঢাকার ব্যবসায়ী হাছান। অন্যজন রাউজানের শহীদ।

দুজনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানতে পারিনি। এ ব্যাপারে আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন। ’ তিনি জানান, শিশুটিকে উদ্ধারের বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত একুশের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাতে নালা থেকে উদ্ধারের পর শিশুটিকে বাঁচাতে প্রাণান্ত চেষ্টা চালান ওসি আলমগীর মাহমুদ। শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রচেষ্টা ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের চিকিৎসাসেবায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছে শিশুটি।

পুলিশ জানতে পেরেছে, গত সোমবার কর্নেল হাট এলাকার লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে আসেন লিপি আক্তার নামের এক নারী। একপর্যায়ে তিনি বাথরুমে গিয়ে সন্তান প্রসব করেন এবং বাথরুম থেকেই নবজাতককে নালায় ফেলে দেওয়া হয়। এখন সেই নারী ও তাঁর সঙ্গীদের খুঁজছে পুলিশ।


মন্তব্য