kalerkantho


ইসি ভবনে প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ আসছে

নিচতলায় মিডিয়ার জন্য বরাদ্দ সপ্তাহে এক দিন

কাজী হাফিজ   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নতুন ভবনে সর্বসাধারণের প্রবেশে ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারও নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। আগামী ১ মার্চ থেকে এ ব্যবস্থা চালু হচ্ছে বলে ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এই নির্বাচন ভবনের প্রতিটি তলা কাচ দিয়ে ঘিরে ফেলা হচ্ছে। আর প্রতিটি তলার প্রবেশপথেই থাকছে ফিঙ্গারপ্রিন্টের ব্যবস্থা। ফলে বিশেষ অনুমতি ছাড়া কেউ এই ভবনে আর প্রবেশ করতে পারবে না।

এদিকে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবন থেকে ইসির এই নতুন ভবনে স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে। আগামী মাসেই এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।  

ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, নতুন নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা রয়েছে যে সপ্তাহে এক দিন গণমাধ্যমে কথা বলবেন ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার কাজটিও সারা হবে কমিশন ভবনের নিচতলায় মূল প্রবেশপথের পাশের মিডিয়া সেন্টারে। এই মিডিয়া সেন্টারেই সাংবাদিকরা অবস্থান করবেন।

আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলে আগে থেকে অনুমতি নিতে হবে।  

পরিকল্পনা কমিশনের ৫ ও ৬ নম্বর ব্লকে আগের নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে ৪৩ বছরের অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্ন। ওই কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের কোনো দূরত্ব তৈরি হয়নি। কমিশন থেকে তথ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি। নির্বাচন কমিশনারদের কক্ষেও সাংবাদিকরা সহজে পৌঁছতে পারতেন।

ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এ বিষয়ে গত বুধবার কালের কণ্ঠকে বলেন, মূল ভবনের নকশা অনুযায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হচ্ছে। সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থা এখানেও বাস্তবায়ন করা হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাজিরা নিশ্চিত করার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্টের ব্যবস্থা থাকছে। ভিজিটরদের জন্য আলাদা কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো ভিজিটর নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে দেখা করতে পারবে না। তবে অনুমতি নিয়ে যে কেউ ভবনে প্রবেশ করতে পারবে।

অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডধারী সাংবাদিকরা সচিবালয়ে সহজেই প্রবেশ করতে পারেন। নির্বাচন কমিশন বিটের সাংবাদিকদের জন্য ইসি ভবনে সে ধরনের কোনো ব্যবস্থা থাকছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, সাংবাদিকদের কার্ড দেওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের যোগাযোগের জন্য এনআইডিসহ কিছু অফিস এই নিরাপত্তাব্যবস্থার বাইরে থাকবে।  

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সর্বসাধারণ তো দূরের কথা ইসির নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ১১ তলাবিশিষ্ট ইসি ভবনটির সব ফ্লোরে প্রবেশের অনুমতি পাবেন না। প্রতিটি ফ্লোরে দুই পাশে দুটি দরজায় বসানো হচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মেশিন। ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় প্রবেশে বেশি কড়াকড়ি থাকবে। কারণ চতুর্থ ফ্লোরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব এবং পঞ্চম তলায় চার নির্বাচন কমিশনারের দপ্তর।


মন্তব্য