kalerkantho


বরিশাল সিটি করপোরেশন

সাজাপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তিও উপনির্বাচনের প্রার্থী

রফিকুল ইসলাম, বরিশাল   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দুজনই যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযোগ, রাজনীতির আড়ালে তাঁরা অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। র‍্যাব তাঁদের মাদকসহ গ্রেপ্তারও করেছিল। মাদক বিক্রির অভিযোগে তাঁদের প্রত্যেকের পাঁচ বছরের জেল হয়। পরে তাঁরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। এবার তাঁরা হলফনামায় মাদক মামলার তথ্য গোপন করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। রিটার্নিং অফিসার তাঁদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন। নির্বাচনে তাঁরা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী।

একজন বরিশাল মহানগর যুবলীগের সদস্য আলতাফ হোসেন ওরফে আব্দুল্লাহ (৩৫)। তিনি বরিশাল নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের দারোগাবাড়ির প্রয়াত আনসার মিয়ার ছেলে। অন্যজন ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বাহার (৪০)।

তিনি দক্ষিণ সাগরদীর গাজী বাড়ির মো. সিরাজুল হকের ছেলে। তাঁরা বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কাউন্সিলর রেজভী-উল কবির চৌধুরীর মৃত্যুতে পদটি শূন্য হয়। আগামী ১ মার্চ নির্বাচন।

নির্বাচনে তাঁদের অংশগ্রহণ স্থানীয় সরকার আইনের পরিপন্থী। সিটি করপোরেশন আইন ২০০৯-এর ৯(২)(ঘ) ধারায় বলা হয়েছে, ফৌজদারি বা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে কমপক্ষে দুই বছর কারাদণ্ড হলে এবং মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর পার না হলে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যাবে না।

আলতাফ হোসেন ওরফে আব্দুল্লাহকে ২০১৪ সালের ১৫ আগস্ট নগরের আলেকান্দায় ১০৩ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন র‍্যাব-৮-এর সদস্যরা। র‍্যাবের ডিএডি মশিউর রহমান কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ২০১৬ সালের ১৫ মে বরিশালের জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। আলতাফ হোসেন এ তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেননি।

আলতাফ বলেন, ‘মেয়র শওকত হোসেন হিরনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলাম। তাঁর মৃত্যুর পর সাদিক আব্দুল্লাহর সঙ্গে রাজনীতি শুরু করি। এতে হিরনের অনুসারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পরিকল্পিতভাবে মাদক দিয়ে আমাকে ফাঁসায়। ’

এনামুল হক বাহারকে নগরীর শের-ই বাংলা সড়ক থেকে র‍্যাবের একটি টহলদল ২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৫৩ পিস ইয়াবাসহ আটক করে। র‍্যাবের ডিএডি আব্দুর রহমান ওই দিন রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেন। বরিশালের জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৬ সালের ১৯ মে তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। হলফনামায় মাদক মামলার তথ্য গোপন করেন তিনি। তাঁর নামে আরো ১২টি মামলা রয়েছে। বাহার বলেন, ‘রায় ঘোষণার পর কয়েক দিন জেলে ছিলাম। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাই। ’ আইনজীবী মানবেন্দ্র বটব্যাল বলেন, যেহেতু দণ্ডাদেশ বহাল রয়েছে, সেহেতু এই দুই ব্যক্তি জামিন পেলেও এ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য।

নির্বাচন ও আইন-শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য : কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ মো. আওলাদ হোসেন বলেন, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় নির্বাচন অফিসের জিজ্ঞাসার পরিপ্রেক্ষিতে চার প্রার্থীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া চারটি মামলার তথ্য জানানো হয়। রিটার্নিং অফিসার জানতে চেয়েছিলেন কারো সাজা হয়েছে কি না। থানার প্রতিনিধি বলেছিলেন, আদালত থেকে তথ্য নিয়ে জানানো যাবে। পরে রিটার্নিং অফিসার আর কিছু জানতে চাননি।

র‍্যাব-৮-এর উপঅধিনায়ক মেজর আদনান কবির বলেন, এনামুল হক বাহার ও আলতাফ হোসেন ওরফে আব্দুল্লাহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাঁরা ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাঁদের পাঁচ বছর করে সাজা হয়েছিল।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আক্কাস হোসেন বলেন, মাদক মামলায় তাদের সাজা হয়েছে, তারা নির্বাচনের অযোগ্য।

সহকারী রিটার্নিং অফিসার (উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা) মো. আব্দুল মান্নান বলেন, কোনো ব্যক্তিকে নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজা যদি উচ্চ আদালত বাতিল করেন তাহলে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন। তবে এই দুই প্রার্থী বিষয়টি হলফনামায় উল্লেখ করেননি।


মন্তব্য