kalerkantho


গণবক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী

সংসদে আগে হাস্যরস হতো এখন চরিত্র হনন হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



উপাচার্যদের ঠিক উপাচার্যের মতো থাকতে হবে। এখন তাঁরা রাজনীতিবিদদের সামনে গিয়ে বসে থাকেন।

সংসদে আগে হাস্যরসের মাধ্যমে আলোচনা হতো, এখন চরিত্র হনন করা হয়। শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে মন্ত্রী, এমপিরা ধাক্কাধাক্কি করেন। এসব ঘটছে সাংস্কৃতিক ঘাটতির কারণে। গতকাল বুধবার দুপুরে এক গণবক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এসব কথা বলেন। জাতীয় জাদুঘরের আয়োজনে সংস্থার মিলনায়তনে ‘সাংস্কৃতিক ঘাটতি ও প্রগতির অন্ধকার’ শীর্ষক এই গণবক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেয়। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি শিল্পী হাশেম খান সভাপতিত্ব করেন। আর স্বাগত বক্তব্য দেন জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী।

শিল্পী হাশেম খান বলেন, ‘আমরা পরের সমালোচনা করে আঙুল তুলি।

নিজের দিকে তুলি না। আগে মানুষ হতে হবে, তারপর ধর্মীয় পরিচয়। আমরা নিজেরাই সংকটে। এ জন্য সাংস্কৃতিক সংকট তৈরি হচ্ছে। বাংলা ভাষায় কত ইংরেজি শব্দ ঢুকাতে পারব সেটাতেই আমাদের কৃতিত্ব প্রকাশ পায়। বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে অনুবাদকের আর কাজ থাকবে না। কারণ আমরাই বাংলা উঠিয়ে দিতে চাইছি। বাংলা ভুলে যাওয়ার সংস্কৃতি আমরা গড়ে তুলছি। ’

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী সংস্কৃতি, তার ঘাটতি, ঘাটতি পূরণে করণীয় বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘১৯৪৮ সালে হিন্দু-মুসলমান ভাগ হলো। তারপর বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭০ সালের ভোটে তারা বাঙালি পরিচয়ে আবার এক হলো। ১৯৭৫ সালের পর থেকে বাঙালিত্ব পেছনে পড়ে গেল। আমরা পরিচয় সংকটে ভুগছি। আমরা প্রথমে মানুষ, তারপর বাঙালি ও পরে ধর্মীয় পরিচয়। ’

উদাহরণ ‘জয় বাংলা’ ধ্বনির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মাত্রা। প্রথমে প্রশ্ন উঠল এটা কি হিন্দুয়ানি শব্দ? মুক্তিযুদ্ধকালে ‘জয় বাংলা’ রণধ্বনি হলো। ১৬ কোটি মানুষের একটি অংশ এ শব্দ উচ্চারণ করে না। সরকারি কর্মচারীরা জয় বাংলা বলতে লজ্জা পায়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টিপ’ ও ‘ঘোমটা’ দেখে মানুষের জাত বিচার বা আচরণে বৈষম্য করা ঠিক নয়। অঞ্চল ও ধর্ম নির্বিশেষে সবার প্রতি সম্মান ও মমত্ববোধেই সংস্কৃতির জয়গান। এ কারণে কপালে টিপ দিলে হিন্দু বা ঘোমটা দিলে মুসলমান এমন ভাবনা অমূলক। তথ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা সংস্কার, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার প্রতি সম্মান, অর্থনীতিতে ঘুষ-দুর্নীতি পরিহার ও দলের ভেতরে গণতন্ত্রের চর্চা দেশকে এগিয়ে নেবে ও সাংস্কৃতিক ঘাটতিও পূরণ করবে।

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের জাতীয় সংসদ হাস্যরসের জায়গা ছিল। সেখানে এখন তিক্ত কথা হয়, চরিত্র হনন করা হয়। বর্তমান রাষ্ট্রপতি স্পিকার থাকা অবস্থায় চমৎকার সংসদ পরিচালনা করেছেন। এখন চরিত্র হননের দুঃখজনক ঘটনা ঘটছে। আগে গ্রাম্য সালিসেও হাস্যরস ছিল। ’

নাগরিকদের শৃঙ্খলাবোধের অভাব আছে উল্লেখ করে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘সাভার স্মৃতিসৌধে, শহীদ মিনারে সেনাবাহিনী বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দরকার হবে কেন? মন্ত্রিসভার সদস্য, এমপিরা ফুল দিতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কি করছেন। কোথাও খাবার দেখলে আমাদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। উন্মাদ হয়ে খাই। এটা অশ্লীলতা। ’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির সব বোঝা আগে ছিল বঙ্গবন্ধুর মাথায়, এখন শেখ হাসিনার মাথায়। আমরা নাগরিকরা বলছি সরকার সব করবে। আর আমরা দায়িত্বহীন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। এটা কি ঘাটতি নয়?’


মন্তব্য