kalerkantho


সংসদে প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর ঢাকার আশপাশেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ঢাকার আশপাশেই সর্বাধুনিক আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ঢাকাকে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য বিমান চলাচলের হাব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এই বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত জবাবে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা জানান, প্রকল্পের সম্ভাব্য সমীক্ষা চালানোর জন্য গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর জাপানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘নিপ্পন কই’ কম্পানির সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছে এবং ১ অক্টোবর থেকে তারা কাজ শুরু করে। এরই মধ্যে তারা জরিপ শেষ করে জায়গা নির্বাচনের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির কাজ করছে। সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে একটি জায়গা নির্বাচন করা হবে। এ ছাড়া দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বাগেরহাটে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট এবং তা হলো জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন। বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত করা। বিমানকে দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার এরই মধ্যে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য বেগম আখতার জাহানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে স্থায়ীভাবে দারিদ্র্যমুক্তির মাধ্যমে একটি ক্ষুধামুক্ত মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। দেশের একটি লোকও ভিক্ষা

করবে না, না খেয়ে থাকবে না। তারা যাতে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে, সেটিই বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের লক্ষ্য।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে দারিদ্র্যসীমার নিচে অবশিষ্ট এক কোটি ৮০ লাখ লোককে সম্পৃক্ত করে তিন কোটি মানুষের জন্য ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর একনেক সভায় আট হাজার ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কার্যক্রম ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সরকারি দলের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, বিশ্বে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার বিস্তৃত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার। এর ফলে এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোসহ বেশ কিছু দেশ পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করেছে। তিনি জানান, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপান, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, চীন, ভারত ইত্যাদি দেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে। রপ্তানি সম্ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ বাজার বিশেষ করে রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান, ব্রাজিল, চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি দেশে রপ্তানি বিপণন উন্নয়নের জন্য সেসব দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অধিক হারে অংশগ্রহণসহ বাণিজ্য প্রতিনিধিদল পাঠানো হচ্ছে।

জাসদের নাজমুল হক প্রধানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত জ্ঞানী ও শিক্ষিত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দেশকে একটি জ্ঞানী ও শিক্ষিত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বর্তমানে দেশের শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের সময়ে শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। একটি যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে এবং তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ’


মন্তব্য