kalerkantho


খাবারে খুঁতখুঁতে শিশু?

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



খাবারে খুঁতখুঁতে শিশু?

আপনার সন্তান কি খাবারের বিষয়ে খুবই খুঁতখুঁতে? কিংবা অতি ব্যস্ত হয়ে খাবার শেষ করতে চায়? যদি তাই হয়, তবে আপনি নিশ্চয়ই দুশ্চিন্তা করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন শিশুদের খুব দ্রুত পুষ্টিতে ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে দিতে হবে।

নয়তো বিপদ! শিশু ও টিনএজারদের প্রতিদিনের পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে দিতে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

যে খাবারগুলো আর খেতে দেবেন না

মাইক্রোওয়েভ পপকর্ন : এই প্রিয় খাবারের ব্যাগে রয়েছে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ যার নাম ডায়াসিটাইল। এটা এক ধরনের সিনথেটিক বাটার, যা ফুসফুসের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দ্বিতীয় সমস্যা হলো পিএফওএ। এটা আরেক রাসায়নিক পদার্থ, যা পপকর্নের ব্যাগে থাকে। এটা থাইরয়েডের জন্য হুমকি। উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল রয়েছে এতে, যা মূত্রথলিতে ক্যান্সার ঘটাতে পারে।

ক্যাফেইনড বেভারেজ : একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় ক্যাফেইন উপকারী। কিন্তু ক্যাফেইনসমৃদ্ধ পানীয় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

শিশুদের উচ্চতা ও মনোযোগ বৃদ্ধিতেও বাধা সৃষ্টি করে এসব পানীয়।

চিনিপূর্ণ ক্যান্ডি : উচ্চমাত্রার ফ্রুকটোজ কর্ন সিরাপ, কৃত্রিম সুইটেইনার ব্যবহৃত হয় চকোলেট ও ক্যান্ডিতে। এগুলো খেলে রক্তে চিনির মাত্রা বৃদ্ধি পায়। স্থূলতা এবং ইনসুলিন উৎপাদনেও বাধা সৃষ্টি করে এসব খাবার।

 

বিকল্প যা দেবেন

চিপসের পরিবর্তে : এর পরিবর্তে আটা দিয়ে মচমচে অন্য কিছু তৈরি করে দিন। এতে মিলবে আরো বেশি ফাইবার, আয়রন এবং কম মাত্রার ক্যালোরি।

কোল্ড ড্রিংকসের পরিবর্তে : লেবু-পানি খাওয়ানোর অভ্যাস করে দিন। প্রয়োজনে জবরদস্তি করুন। চিনি দিয়ে লেবুর শরবত দারুণ স্বাস্থ্যকর পানীয়। এতে কোনো ক্যাফেইন, প্রিজারভেটিভ নেই।

বার্গারের পরিবর্তে : শিশুর বার্গারের পাতে তুলে দিন চিজ স্যান্ডুইচ। পনিরে রয়েছে ক্যালসিয়াম। এ ছাড়া বার্গারের তুলনায় এতে রুটির পরিমাণও কম থাকে। সব মিলিয়ে বার্গারের চেয়ে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।

ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের পরিবর্তে : বাড়িতে চিকেন ফ্রাই করে দিন। এতে মিশিয়ে দিন পনির। প্রোটিনের চমৎকার সমন্বয়। শিশুর পেশি গঠনে সহায়ক হবে।

 

আরো আকর্ষণীয় ও পুষ্টিকর করতে

১. বাড়িতে পুরি ভেজে খেতে পছন্দ করে শিশুরা। কিন্তু এগুলো খাওয়ানোর সময় বেশি বেশি শসা দিন। যেন পুরির চেয়ে শসা বেশি খাওয়া হয়।

২. পিজ্জায় তরল বা গলানো পনিরের পরিবর্তে শক্ত পনির বা পনিরের স্লাইস ব্যবহার করুন। গলানো পনিরে অনেক বেশি অস্বাস্থ্যকর ক্যালোরি থাকে। সহজে হজমও হয় না।

৩. নুডলসে বেশি বেশি শিমের বিচি দিন।

এভাবে বিভিন্ন আইডিয়া নিজেই প্রয়োগ করতে পারেন।

 

মনে রাখবেন :

শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য ফ্যাটে দ্রবণীয় ভিটামিন খাওয়ানো দরকার। এর জন্য দুধ, দই এবং ডিমের মতো খাবার থেকে ফ্যাট সরবরাহ করা দরকার। তেমনি দিতে হবে ভিটামিন ‘এ’, ‘ডি’ ও ‘ই’। এসব ফ্যাটে থাকে কোলেস্টেরল, যা মস্তিষ্ক গঠনে সহায়তা করে। শিশুদের দরকার ভেজিটেবল অয়েল। বাজারে সানফ্লাওয়ার, পিনাট, ক্যানোলা এবং রাইস ব্রান তেল পাওয়া যায়। এগুলো অবশ্যই খাওয়াবেন। এসব তেলে যে ফ্যাটি এসিড থাকে তা ভিটামিন গ্রহণ এবং হরমোনের সঠিক কার্যক্রমের জন্য অতি জরুরি। আইসক্রিম, কুকি, কেক, চিপস এবং প্রক্রিয়াজাত আরো অন্যান্য খাবারের ট্রান্স-ফ্যাট ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করবেন শিশুকে।

ইন্ডিয়া টাইমস অবলম্বনে সাকিব সিকান্দার


মন্তব্য