kalerkantho


নিজেদের উপগ্রহের আগেই ‘দক্ষিণ এশীয় উপগ্রহ’ সেবা পাওয়া যাবে

কাজী হাফিজ   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নিজেদের উপগ্রহের আগেই ‘দক্ষিণ এশীয় উপগ্রহ’ সেবা পাওয়া যাবে

যোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবার জন্য আগামী ডিসেম্বরে দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু-১’ উেক্ষপণের কথা রয়েছে। তবে তার আগেই ভারতের ‘দক্ষিণ এশীয় উপগ্রহ’-এর সেবা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

সার্ক অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আপৎকালীন জরুরি যোগাযোগ প্রভৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ভারত সরকার ‘দক্ষিণ এশীয় উপগ্রহ’ উেক্ষপণের উদ্যোগ নেয়। শুরুতে এর নাম ছিল ‘সার্ক উপগ্রহ’।

২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ উপগ্রহ উেক্ষপণের প্রস্তাব করেন। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, মালদ্বীপ ও নেপাল প্রস্তাবে রাজি হলেও পাকিস্তান ও আফগানিস্তান রাজি হয়নি। এ জন্য নাম পরিবর্তন করা হয়। ভারতের গণমাধ্যমের খবর অনুসারে আগামী মাসে এটি উেক্ষপণ করা হবে। এর আগেই বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সফর বিলম্বিত হলে ঢাকায় বিটিআরসির সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চুক্তি হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘নিজস্ব স্যাটেলাইটের আগেই আমরা দক্ষিণ এশীয় স্যাটেলাইট থেকে সেবা পেতে যাচ্ছি। এর একটি ট্রান্সপন্ডার (৩৬ মেগাহার্জের সমান) বাংলাদেশকে ফ্রি দেওয়া হবে। এর ফ্রিকোয়েন্সি আমাদের স্যাটেলাইটের ফ্রিকোয়েন্সিতে কোনো অন্তরায় সৃষ্টি করবে না। ’ দক্ষিণ এশীয় উপগ্রহের কারণে বাংলাদেশের নিজস্ব উপগ্রহের বাণিজ্যিক উপযোগিতায় ব্যাঘাত ঘটবে না বলে জানান তিনি।

সূত্র জানায়, ‘দক্ষিণ এশীয় উপগ্রহ’ বিষয়ে ভারত সরকারের প্রস্তাবিত খসড়া চুক্তি ২০১৫ সালের ২১ মে বিটিআরসির সভায় উত্থাপন করা হয়। সভার অভিমত : ‘বঙ্গবন্ধু-১’-এর ফ্রিকোয়েন্সি ও সেবায় এ উপগ্রহ প্রভাব ফেলবে কি না তা দুই দেশের বিশেষজ্ঞপর্যায়ে পর্যালোচনা করে চুক্তি সইয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের তিন সদস্যের একটি কমিটি বলে ‘বঙ্গবন্ধু-১’-এর তরঙ্গে ও সেবায় প্রভাব না ফেললে ‘দক্ষিণ এশীয় স্যাটেলাইট’ সমর্থন করা যায়। এ মত ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দেওয়া হয়।

‘বঙ্গবন্ধু-১’-এর অরবিটাল স্লট ১১৯.১০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে ও দক্ষিণ এশীয় উপগ্রহের অরবিটাল স্লট ৪৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। অবস্থানের কারণে তরঙ্গ সমন্বয়ে জটিলতা দেখা দেবে না। তবে উভয় উপগ্রহের কাভারেজ বিবেচনায় ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কার বিষয়টি গত ৭ এপ্রিল ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে পর্যালোচনা করে দেখতে বলে বিটিআরসি। গত ১০ আগস্ট বিটিআরসির একটি প্রতিনিধিদল বেঙ্গালুরুতে ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশনের (আইএসআরও) সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সমন্বয় বৈঠক করে।

ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে গত ১০ অক্টোবর অরবিট ফ্রিকোয়েন্সি কো-অর্ডিনেশন চুক্তির খসড়ায় একটি ধারা সংযুক্ত করা হয়। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু-১ উপগ্রহের ফ্রিকোয়েন্সিতে দক্ষিণ এশীয় উপগ্রহের ফ্রিকোয়েন্সি কোনো অন্তরায় সৃষ্টি করবে না। গত ১৩ অক্টোবর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বিটিআরসিকে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করতে ও স্বাক্ষরের ব্যবস্থা নিতে বলে। গত ১ নভেম্বর তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঠানো ভারত সরকারের একটি চুক্তির সংশোধিত খসড়া বিটিআরসির কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলে। এরপর খসড়া চুক্তি অনুমোদন করে দ্রুত ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনারের কাছে পাঠানো হয়। গত ডিসেম্বরের শেষদিকে বিটিআরসির ২০১তম সভায় বিষয়টিতে ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, আগামী ডিসেম্বরে মহাকাশে ‘বঙ্গবন্ধু-১’ উপগ্রহ উেক্ষপণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর ফ্রান্সের থালেস আলেনিয়া স্পেসের সঙ্গে বিটিআরসির এ বিষয়ে চুক্তি সই হয়। উপগ্রহের মূল কাঠামো তৈরি হবে ফ্রান্সের তুলুজে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। উেক্ষপণের জন্য রাশিয়ার ইন্টারস্পুিনকের কাছ থেকে ১১৯.১০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অরবিটাল স্লট কেনে বাংলাদেশ। এ জন্য খরচ হয়েছে ২১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী থালেস আলেনিয়ার সঙ্গে চুক্তির দিন বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু-১ কক্ষপথে স্থাপন করা হলে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ও টিভি সম্প্রচার ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। বিদেশি উপগ্রহের ওপর নির্ভরতা কমবে। উপরন্তু বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারবে।

বঙ্গবন্ধু-১ উপগ্রহের কর্মকাল হবে ১৫ বছর। দক্ষিণ এশীয় উপগ্রহের কর্মকাল হবে ১২ বছর। বঙ্গবন্ধু-১ ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, তুর্কমেনিস্তান, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানকেও সেবা দিতে পারবে। ১২টি ট্রান্সপন্ডারের মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় উপগ্রহ সার্ক অঞ্চলে সেবা দিতে পারবে।


মন্তব্য