kalerkantho


জয়শঙ্কর আসছেন কাল

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আলোচনা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আলোচনা

২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের সফরে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় আসছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফর বিষয়ে আলোচনা করাই তাঁর এ সফরের লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আগামী মাসের শেষ দিকে বা এপ্রিলের প্রথমার্ধে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। বলা হচ্ছে, আসন্ন এ সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরো জোরালো করবে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পররাষ্ট্রসচিব চীন থেকে বাংলাদেশ সফরে আসবেন। তিনি ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। আগামী শুক্রবার সকালে নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে জয়শঙ্করের।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ গত বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের আমন্ত্রণে ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব ঢাকা সফর করবেন। সফরের সময় বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্রসচিবরা উচ্চপর্যায়ে সফরসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা পর্যালোচনা করবেন।

বিকাশ স্বরূপের কাছে এক সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে ঝুলে থাকা ইস্যুগুলোর বিষয়ে এ সফরে কোনো সিদ্ধান্ত আসবে বা কোনো অগ্রগতি হবে?

জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছিলেন, ‘পররাষ্ট্রসচিব বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সব বিষয়ে যথাযথ আলোচনা করবেন।

এটি (বাংলাদেশ) আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। বাংলাদেশ আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান অংশীদার এবং আপনারা জানেন, তারা (বাংলাদেশ) বিবিআইএন কাঠামোর অংশ হিসেবেও আমাদের নিবিড়ভাবে সহযোগিতা করে। তাই সেখানে (বাংলাদেশে) পররাষ্ট্রসচিবের সফর অবশ্যই সব ইস্যুতে আলোচনার জন্য। আপনারা জানেন, একটি উচ্চপর্যায়ে সফর হওয়ার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্রসচিবের সফর সে বিষয়েও আলোচনা করার জন্য। ’

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ২০১৫ সালের ৫ ও ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় সফরের ফিরতি সফর হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিগগিরই ভারতে পূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন। এ সফরে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে উভয় দেশ ইতিমধ্যে কয়েক ডজন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়া চূড়ান্ত করেছে। গত মাসে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকায় অনুষ্ঠিত উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতাবিষয়ক এক বৈঠকে ওই চুক্তি ও এমওইউগুলোর খসড়া পর্যালোচনা করা হয়।

তবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার এখনো রাজি না হওয়ায় তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সই হওয়ার ব্যাপারে শিগগিরই কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত গঙ্গা ব্যারাজ নিয়েও মমতার আপত্তির খবর গণমাধ্যমে এসেছে।


মন্তব্য