kalerkantho


বাজিতপুরে ভুয়া ‘সাংবাদিক’ ও ‘ম্যাজিস্ট্রেট’সহ আটক ৮

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বাজিতপুরে ভুয়া ‘সাংবাদিক’ ও ‘ম্যাজিস্ট্রেট’সহ আটক ৮

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে প্রতারণা করতে এসে জনতার হাতে আটক হয়েছেন সাত ভুয়া সাংবাদিক ও তাঁদের সঙ্গী ভুয়া নারী ম্যাজিস্ট্রেট। ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতে’ শাস্তি দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছিলেন তাঁরা।

প্রতারকদলের একমাত্র নারী সদস্য নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্য ছয়জন কথিত একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদক, সাংবাদিক ও সরকারি কর্মচারী পরিচয় দিয়ে ফেঁসে যান। সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ সাতজনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করে গতকাল মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

প্রতারকদলের প্রধানের নাম বাদশাহ দেওয়ান। তিনি নিজেকে ‘ক্রাইমরিপোর্ট-২৪ডমকম’-এর সম্পাদক বলে পরিচয় দেন। তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা। ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়দানকারী শিউলী আক্তার পিয়া নিজেকে সম্পাদকের স্ত্রী বলে দাবি করেন। তাঁর বাড়ি মৌলভীবাজারের ইসলামপুরে। এ ছাড়া ঢাকার ডেমরার ডগাইরবাজারের আনোয়ার হোসেন, চাঁদপুরের বিষ্ণুপুরের মো. আল-আমিন, ঝালকাঠির বড় একসেরাপাড়ার মিজানুর রহমান, কুমিল্লার তিতাসের শাহপুরের মাহবুব হোসেন সুমন ও বরিশালের উজিরপুরের ডহরপাড়ার মো. রেজাউলকেও আটক করা হয়।

পুলিশ এঁদের নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করেছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেলে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে চড়ে কথিত সাত প্রতারক বাজিতপুরের সরারচর বাজারে আসেন। কয়েকজন মিষ্টির দোকানির কাছে গিয়ে নিজেদের ম্যাজিস্ট্রেট ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তাঁরা বলেন, ‘আপনারা মিষ্টিতে অতিরিক্ত হাইড্রোজেন দেন। রসিদ ছাড়া সওদা বিক্রি করেন। ’ শেষে দাবি করেন চাঁদা। টাকা না দিলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে জেল খাটাবেন বলে হুমকি দেন। পরে বাধ্য হয়ে দোকানিরা প্রতারকদের হাতে টাকা তুলে দেন।

একইভাবে হিলচিয়া বাজারে গিয়েও প্রতারকরা মিষ্টিসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে নানা কথা বলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে শাস্তির হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করতে শুরু করেন। কয়েকজন ব্যবসায়ীর এ নিয়ে সন্দেহ হলে তাঁরা প্রতারকদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

পুলিশ জানায়, প্রতারকদের কাছ থেকে একটি ভিডিও ক্যামেরা, দুটি মাউথ পিস, অনলাইন নিউজ পোর্টালের ২০টি ছাপানো প্যাড ও পাঁচটি ভুয়া পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

সরারচর বাজারের শ্রী দুর্গা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক কৃষ্ণ বণিক জানান, প্রতারকদলের দুই সদস্য তাঁর দোকানে গিয়ে ‘দোকান অপরিচ্ছন্ন কেন?’, ‘নিচে মিষ্টির রস পড়ে থাকার কারণ কী?’ ইত্যাদি প্রশ্ন করেন। পরে বলেন, ‘গাড়িতে ম্যাজিস্ট্রেট স্যার বসা। জানলে জেলে যেতে হবে। পত্রিকায়ও লেখা হবে। এর আগে বকশিশ দিয়ে দিন। বেঁচে যাবেন। ’ ভয়ে তিনি তাঁদের হাতে দুই হাজার টাকা তুলে দেন। পাশের আরো তিনটি মিষ্টির দোকান থেকে একইভাবে টাকা নেওয়া হয়।

কথিত সম্পাদক বাদশাহ দেওয়ান জানান, তিনি প্রতারক নন। নিজের নিউজ পোর্টালের জন্য সাংবাদিক দল নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করতে এসেছিলেন। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নানারকম প্রতারণা নিয়েই তাঁরা প্রতিবেদন করতেন। টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বাদশাহ জানান, ব্যবসায়ীরা খুশি হয়েই টাকা দিয়েছেন। সম্পাদকের কথিত স্ত্রী শিউলী আক্তার পিয়া বলেন, তাঁর স্বামী তাঁকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে এখানে নিয়ে এসেছেন। তিনি নিজে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেননি।


মন্তব্য