kalerkantho


সাগরপথে বিশ্ব পর্যটনে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সাগরপথে বিশ্ব পর্যটনে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

বিলাসবহুল জাহাজ ‘সিলভার ডিসকভারার’ প্রথমবারের মতো আজ চট্টগ্রাম বন্দরের সমুদ্রসীমায় পৌঁছবে। ছবি : কালের কণ্ঠ

পর্যটন খাতের বিকাশে বর্তমান সরকারের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাগরপথে বিশ্ব পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার প্রায় এক শ পর্যটক নিয়ে শ্রীলঙ্কার কলম্বো থেকে যাত্রা করা বিলাসবহুল জাহাজ ‘সিলভার ডিসকভারার’ প্রথমবারের মতো আজ বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের সমুদ্রসীমায় পৌঁছবে।

বাংলাদেশে চার দিনের ভ্রমণ শেষে জাহাজটি আগামী শনিবার ভারতের কলকাতায় গিয়ে যাত্রা শেষ করবে।

বিদেশি পর্যটকদের এই ভ্রমণকে ঘিরে কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, পর্যটন মন্ত্রণালয়, এমনকি জাহাজের সঙ্গে জড়িত দেশীয় এজেন্টরাও খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করতে চাচ্ছে না।

জানতে চাইলে ‘সিলভার ডিসকভারার’ জাহাজটির দেশীয় ট্যুরিজম পার্টনার জার্নি প্লাসের প্রধান নির্বাহী তৌফিক রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাহাজটিতে প্রায় এক শ বিদেশি পর্যটক আছেন, যাঁরা মহেশখালী ও সুন্দরবন ভ্রমণ করে সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করবেন। নিরাপত্তার কারণে আমরা বিস্তারিত শিডিউল প্রকাশ করছি না। ভ্রমণকারীরাও চাইছেন না এখনই তাঁদের আগমন নিয়ে কোনো প্রচারণা হোক। ’ তিনি আরো বলেন, ‘এই ভ্রমণের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ পর্যটনে অন্য এক উচ্চতায় পৌঁছবে। কিন্তু যেহেতু তাঁরা চাইছেন না সে জন্য আমরা ঘটা করে কোনো স্বাগতও জানাচ্ছি না। তবে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।

জানা গেছে, ‘সিলভার ডিসকভারার’ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের সমুদ্রসীমায় আজ পৌঁছার কথা রয়েছে। সেখান থেকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে নেমে বিখ্যাত আদিনাথ মন্দির, ঐতিহাসিক স্থাপনা, চিংড়ি ঘের, লবণ মাঠ ও পাহাড়সহ মনোরম স্থান পরিদর্শন করবে পর্যটকরা। পরে আবার জাহাজে উঠে বৃহস্পতিবার হিরণ পয়েন্ট ভ্রমণ করবে। এরপর শুক্রবার সুন্দরবন ভ্রমণ করবে। সেখান থেকে শনিবার কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেবে। জাহাজে কলম্বো থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশ এবং শেষে আবার ভারত—এই ১৪ দিনের সফরে জনপ্রতি ১০ হাজার ৭৫০ ডলার খরচ হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সমুদ্রপথে বিলাসবহুল জাহাজ পরিচালনাকারী ‘সিলভার সি’ গ্রুপ ৪৭টি জাহাজ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পর্যটক পরিবহন করছে। এদের দুটি রুটে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রথম রুটটি হচ্ছে শ্রীলঙ্কার কলম্বো থেকে বাংলাদেশ হয়ে কলকাতা। দ্বিতীয় রুটটি হচ্ছে কলকাতা থেকে বাংলাদেশ, মিয়ানমার হয়ে থাইল্যান্ড। এই জনপ্রিয় দুটি রুটে যুক্ত হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার চেষ্টা করছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে পর্যটন বর্ষ উপলক্ষে জোর চেষ্টা চালিয়ে আন্তর্জাতিক এই রুটে যুক্ত করতে সমর্থ হয় সরকার।

জানতে চাইলে জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট গিয়াস উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য বিশাল অর্জন। প্রথমত এতগুলো বিদেশি পর্যটক কক্সবাজার ও সুন্দরবন ভ্রমণ করে বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে যাবেন। আর আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী রুটে বাংলাদেশ যুক্ত হলো, যা বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার আরেকটি বড় প্রমাণ। ’

প্রায় এক শ পর্যটকের ভিসা কিভাবে হবে—এ বিষয়ে কেউ কোনো মন্তব্য করেননি। তবে জানা গেছে, টেকনাফ স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ ভ্রমণকারীদের অন অ্যারাইভাল ভিসা ইস্যু করবে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মরত ইমিগ্রেশন পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত শনিবার এসংক্রান্ত একটি চিঠি পেয়েছি। প্রথম দিকে পর্যটকরা চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। এখন টেকনাফে কর্মরত ইমিগ্রেশন অফিসার তাদের অন অ্যারাইভাল ভিসা নিশ্চিত করবেন। ’

বিদেশি পর্যটকবাহী জাহাজের নিরাপত্তা ও আগমনের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ বিষয়টি আমার জানা নেই। অফিশিয়ালি কোনো চিঠিও পাইনি। ’

বিদেশি জাহাজে আসা পর্যটকদের ভিসা ইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম পাসপোর্ট ও ভিসা অধিদপ্তরের পরিচালক এস এম নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ধরনের অভিজ্ঞতা আমার জন্য নতুন। জাহাজে এসে ভ্রমণ শেষ করে যদি কেউ জাহাজেই চলে যায় তাহলে চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্ট এসবি বা স্পেশাল ব্রাঞ্চ শাখা ভিসা ইস্যু করবে। আর জাহাজে এসে যদি কেউ রুট পরিবর্তন করে তাহলে আমাদের বিভাগে এসে এক্সিট সিল নিতে হবে। ’


মন্তব্য