kalerkantho


বাঘাইছড়ি পৌর নির্বাচন

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে শায়েস্তার কৌশল!

রাঙামাটি প্রতিনিধি   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রাঙামাটির বাঘাইছড়ি পৌর নির্বাচনের দুই দিনের মাথায় এক প্রার্থীর তিন ছেলে, শ্যালক, সমর্থকসহ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। পুলিশের কাজে বাধাদানের অভিযোগ তুলে ওই মামলা করার পর গতকাল সোমবার বিকেলে চবি ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাসহ স্থানীয় দুই যুবককে রাঙামাটির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়।

এ সময় আদালত তাঁদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে এ জন্য নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থীকেই দায়ী করা হয়েছে।

আজিজুর রহমানের বড় ছেলে রাজু আহমেদ খোকন জানান, তাঁর ভাই রাকিব হোসাইন মুক্তা, রেজাউল করিম রুবেল, রিয়াজ মাহমুদ হীরা, মামা আফজাল হোসেন ও প্রতিবেশী নুর হোসেনকে মামলার আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাসায় বেড়াতে আসা চবি ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকেও এই মামলার আসামি করা হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করেছে।

এর আগে রবিবার সকালে আজিজুর রহমানের বাড়ি থেকে চবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক বায়েজিদ সজল, সহসম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, সদস্য পিয়াল, রাকিব ও মো. ওসমানকে আটক করে পুলিশ। পরে আজিজুর রহমানের শ্যালক আফজাল হোসেন ও নূর ইসলামকেও আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধাদানের অভিযোগ তোলা হলেও চবি ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আবু সাঈদ দাবি করেছেন, সাজেক ঘুরতে এসে তাঁদের সহকর্মী রাকিবের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন তাঁরা। রবিবার সকালে বাড়ির পাশের রাস্তায় ওসি তাঁদের চ্যালেঞ্জ করে বাঘাইছড়ি আসার কারণ জানতে চান।

এ নিয়ে দুই পক্ষে বাগিবতণ্ডা হলে ওসি অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে এসে তাঁদের মারধর করে থানায় নিয়ে যান।

বাঘাইছড়ি থানার ওসি আবুল কালাম চৌধুরী দাবি করেন, আটক ব্যক্তিরা বহিরাগত। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ায় আইনগত পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই তাঁদের আটক করা হয়েছে।

এদিকে এ আটকের খবরে তাত্ক্ষণিক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে অবরোধ করে চবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম ফজলে রাব্বি সুজন বলেন, ‘বেড়াতে যাওয়া ছাত্রলীগ নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। নইলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেয়। ’

আদালত পরিদর্শক এস এম আজিজুল হক জানিয়েছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশের কাজে বাধাদানের অভিযোগে মামলা হয়েছে। আদালতে ১০ আসামির মধ্যে সাতজনকে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।

এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচন থেকে আমাকে সরাতে ব্যর্থ হয়ে ভোটের পরদিন প্রতিশোধের নেশায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও পুলিশ উন্মত্ত আচরণ করছে। আমার নেতাকর্মীরা কেউ বাসায় থাকতে পারছে না, তাদের পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এ কারণে আমার সমর্থকরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ’ এ জন্য সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদারকে দায়ী করেন তিনি। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর জানিয়েছেন, এ অভিযোগ সত্য নয়।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিন হাজার ৭৯৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জাফর আলী খান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন একসময়কার আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুর রহমান। তৃতীয় হয়েছিলেন ধানের শীষের প্রার্থী ওমর আলী।


মন্তব্য