kalerkantho


১২৩ অবৈধ নার্সে ঝুঁকিপূর্ণ সেবা

তদন্ত করবে বিএনসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সরকারি অনুমোদন ছাড়াই চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নার্সিং ইনস্টিটিউট চালু করে ১৭টি ব্যাচে ছাত্রী ভর্তি করেছিল। ১৯৯০-৯১ থেকে শুরু করে ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত এ ইনস্টিটিউটে প্রতি ব্যাচে ২০ জন করে ছাত্রী ভর্তি করা হয়।

পাস করার পর হাসপাতাল পরিচালক ও সেবা তত্ত্বাবধায়কের যৌথ স্বাক্ষরে শিক্ষার্থীদের সনদপত্র দেওয়া হয়েছে। ১৭টি ব্যাচে পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১২৩ জন এখন ওই হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত আছেন, যাঁরা এখনো বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিলের (বিএনসি) রেজিস্ট্রেশন কিংবা সনদ পাননি।

এ নিয়ে কালের কণ্ঠে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ‘১২৩ অবৈধ নার্সে ঝুঁকিপূর্ণ সেবা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, বিএনসির রেজিস্ট্রেশন ও সনদ ছাড়াই এসব নার্স ছয় থেকে ২২ বছর ধরে ওই হাসপাতালে কাজ করছেন।  

জানা গেছে, প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর গতকাল রবিবার থেকে বিএনসির সনদ ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন ১২৩ সিনিয়র স্টাফ নার্সের মধ্যে ২৩ জনের কাছ থেকে ওয়ার্ড ইনচার্জের দায়িত্ব নিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের জায়গায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইনচার্জের দায়িত্ব দিয়েছে বিএনসির সনদ ও রেজিস্ট্রেশন আছে নতুন ২৩ জনকে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার সুরাইয়া বেগম গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনসির অনুমোদন ছাড়া কোনো নার্সিং ইনস্টিটিউট হবে না। অনুমোদিত নার্সিং কলেজ, ইনস্টিটিউট থেকে শিক্ষার্থী পাস করলে তাদের সনদ ও পরবর্তী সময়ে পরীক্ষায় পাসের পর রেজিস্ট্রেশন দেয় বিএনসি। চট্টগ্রাম মা ও শিশু নার্সিং ইনস্টিটিউট অবৈধভাবে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং কোর্স চালু করে ১৭ বছর ধরে সনদ দিয়ে থাকলে, তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি জানাব। এরপর তদন্ত কমিটি করা হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই হাসপাতালের একাধিক সিনিয়র স্টাফ নার্স বলেন, ‘ইনস্টিটিউট থেকে পাস করার পর হাসপাতালের সনদ নিয়ে আমরা চাকরি করছি। বিএনসির অনুমোদন নেই, তা আমরা জানতাম না। এত নামিদামি প্রতিষ্ঠান নার্সিং ইনস্টিটিউট খুলেছে; কিন্তু তার অনুমোদন নেই, সেটা আমরা কিভাবে বুঝব। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেছে, তারাও তো এত দিন কিছু বলেননি। পাস করা শিক্ষার্থী ও নার্সরা অবৈধ নয়, অবৈধ হলে তা প্রতিষ্ঠান হতে পারে। বিএনসির সনদ ও রেজিস্ট্রেশন না পাওয়ার জন্য দায়ী মা ও শিশু হাসপাতাল এবং তাদের নার্সিং ইনস্টিটিউট।

তবে সার্বিক বিষয়ে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কেউই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।


মন্তব্য