kalerkantho


বিএনপি অফিস নিলামের খবরে আইনি প্রস্তুতি আইনজীবীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নিলামের খবর কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হওয়ার পর গতকাল রবিবার এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়েছেন দলটির আইনজীবী নেতারা। তাঁরা ব্যাংক ও আদালত থেকে সর্বশেষ তথ্য নিয়ে কাজ করছেন।

এমনটি জানিয়ে দলের আইনবিষয়ক সম্পাদক সানা উল্লাহ মিয়া কালের কণ্ঠকে জানান, আইন অনুযায়ী সম্পত্তি মর্টগেজের ক্ষেত্রে ‘মেমোরেন্ডাম অব ডিপোজিট অব টাইটেল’ প্রয়োজন হয়। এখানে প্রথম তফসিল হিসেবে দলের বহিষ্কৃত নেতা তানবীর আহমদ সিদ্দিকীর গুলশানের বাড়ি দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় তফসিলে নয়াপল্টনের কাগজ হিসেবে দলিলের ফটোকপি দেওয়া হয়েছে। আদালত বলে দিয়েছিলেন একটি নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে গুলশানের ও নয়াপল্টনের জমির মূল দলিল তাঁর দপ্তরে জমা দিতে। যেহেতু বিএনপি তার কোনো জমি মর্টগেজ দেয়নি, তাই আদালতের দেওয়া সময় অনুযায়ী গুলশানের দলিলের কপি জমা পড়লেও সেখানে নয়াপল্টনের মূল দলিল কেউ জমা দেয়নি। এখানে পরিষ্কার, কেউ একজন ‘প্রতারণা বা জালিয়াতি’ করতে চেয়েছে। ফলে নয়াপল্টনের মূল দলিল জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই বিএনপির কোনো দায়ও এখানে নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে সানা উল্লাহ বলেন, ‘ব্যাংক যা করেছে, তা অন্যায়।

তারা তো বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নিলাম করতে পারে না, যেখানে তাদের কাছে কোনো কাগজ নেই। তা ছাড়া এ নিয়ে একটি মামলা আদালতের ‘স্থগিতাদেশ’ রয়েছে। আমরা আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছি, আইনিভাবে মোকাবিলা করব। ’

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ১৭ ফেব্রুয়ারি ‘বিএনপি অফিস নিলামে উঠছে!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে কালের কণ্ঠ। ব্যাংক ও অর্থঋণ আদালতের সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা তানবীর আহমদ সিদ্দিকী ১৯৮০ সালের ২০ আগস্ট কালিয়াকৈরের জমি ও গুলশানের বাড়ি-সম্পত্তি বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে ৩৫ লাখ টাকা ঋণ নেন, যা বর্তমানে সুদাসলে ১৩ কোটি টাকা হয়েছে। ঋণ নেওয়ার পর ১৯৮৮ সালে তানবীর সিদ্দিকী গুলশানের বাড়ির পরিবর্তে নয়াপল্টনের ২৮/১ নম্বর পাঁচতলা বাড়িটির জমি সিকিউরিটি হিসেবে ইস্টার্ন ব্যাংকে জমা দেন, যা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮৯ সালের ১৬ আগস্ট ওই সম্পত্তি ব্যাংকের কাছে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলমূলে বন্ধক রাখা হয়। এর মাধ্যমে ওই সম্পত্তি বিক্রি করার বিষয়ে আইনগত ক্ষমতা পায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ব্যাংক বাড়িটি নিলামে তুলতে মামলা করে ২০ বছর আগে। বর্তমানে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।


মন্তব্য