kalerkantho


পদ্মা সেতুর আরো দুটি স্প্যান মাওয়ায়

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পদ্মা সেতুর আরো দুটি

স্প্যান মাওয়ায়

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়ায় পদ্মা সেতুর সুপার স্ট্রাকচারের আরো দুটি স্প্যান এসে পৌঁছেছে। স্প্যান দুটির শেষ চালান গত শুক্রবার মাওয়ায় পৌঁছায়। চীন থেকে সমুদ্রপথে মাদার ভেসেলে এটি কুতুবদিয়া চ্যানেলে আসে। সেখানে কাস্টমসের কাজ শেষে বার্জে করে মাওয়ায় পৌঁছায়। ১০টি বার্জে বিশাল এ চালান গত রবিবার থেকে আসতে শুরু করে। এই নিয়ে মোট ছয়টি স্প্যান মাওয়ায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রথম স্প্যানটি ফিট করে লোড টেস্ট সম্পন্ন করে রাখা হয়েছে। এখন পিলার উঠলেই এ স্প্যানটি বসিয়ে দেওয়া হবে। বাকি স্প্যানগুলোও ফিটিংয়ের কাজ চলছে। পদ্মা সেতুর ৪২টি পিলারে ৪১টি স্প্যান লাগবে। ১৫০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির সুপার স্ট্রাকচারের প্রতিটি স্প্যানের ওজন প্রায় দুই হাজার ৯০০ টন।

বাকি স্প্যানগুলো চীনে পর‍্যায়ক্রমে তৈরি করা হচ্ছে এবং তা সমুদ্রপথে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে।

পদ্মা সেতুর প্রকল্পের আওতায় পদ্মার ওপর দিয়ে ন্যাশনাল গ্রিডের বিদ্যুৎ লাইন স্থাপিত হচ্ছে। তাই পদ্মার বুকে এ বিদ্যুৎ লাইনের জন্য সাতটি পিলার স্থাপন করার প্রক্রিয়ায় সয়েল টেস্ট শুরু হয়েছে। এ বিদ্যুৎ লাইনটি হচ্ছে শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি ন্যাশনাল গ্রিড লাইন। নতুন এ লাইনের মাধ্যমে ন্যাশনাল গ্রিডে যুক্ত হবে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জসহ আশপাশের জেলাগুলো। সব মিলিয়ে এখন নির্মাণযঞ্জে অনেক স্বপ্নই দৃশ্যমান হতে চলেছে।

মাওয়ায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পাইল ড্রাইভ করার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। ৪ নম্বর পিলারের কাছে সয়েল টেস্টের জন্য করা মঞ্চ গত বর্ষায় ভেঙে যায়। এতে পদ্মার তলদেশে মাটিতে লোহার টিউব রয়ে গেছে। এটি অপসারণ না করে পাইল স্থাপন শুরু করা যাচ্ছে না। তাই এগুলো অপসারণের কাজ চলছে। এদিকে জাজিরা প্রান্তে ট্রানজিট পিলারে লোড টেস্ট শুরু হয়েছে। তিনটি পাইল স্থাপনের পর নিয়ম অনুযায়ী এই লোড টেস্ট। ১৪ দিন ধরে এ লোড টেস্ট করা হবে। এ লোড পরীক্ষার পরই আবার পাইল স্থাপন শুরু হবে। এই ট্রানজিট পিলারে ১৬টি পাইল বসবে। জাজিরা প্রান্তে ভয়াডাক্টের কাজও এগিয়ে চলেছে। তবে মাওয়া প্রান্তে নতুন টেস্ট পাইল স্থাপন এবং লোড টেস্টের পরই এ প্রান্তের ভয়াডাক্টের কাজ শুরু হবে।

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পে কর্মরত চীনা কর্মীদের অনেকেই নববর্ষের ছুটিতে ২৭ জানুয়ারি দেশে গিয়েছিলেন পরিবার-পরিজনের কাছে। ছুটি শেষে তাঁরা কাজে যোগদান করেছেন গত বুধবার। তবে পুরোদমে তাঁরা কাজে লেগেছেন শুক্রবার। চলতি মাসেই কাজের তদারকিতে যোগ দিচ্ছেন বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের বিশেষজ্ঞ। ২০১৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে চলছে বিশাল এই কর্মযজ্ঞ। দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে মূল সেতুর নির্মাণকাজ।


মন্তব্য