kalerkantho


আইন-শৃঙ্খলার অবনতি খুলনায় জনমনে উদ্বেগ

কৌশিক দে, খুলনা   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০




আইন-শৃঙ্খলার অবনতি খুলনায় জনমনে উদ্বেগ

মহানগরী খুলনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন কেবলই অবনতির দিকে যাচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে চুরি, ডাকাতি ও লুটপাটের মতো ঘটনা নৈমিত্তিক হয়ে উঠেছে। গ্রিল কেটে বাসার ভেতরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ডাকাতির ঘটনাও ঘটছে। এ অবস্থায় জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতা থেকে বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা মহানগরীতে চলতি মাসে একাধিক চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারেনি। গত বুধবার সকাল ৭টায় নগরীর ব্যস্ততম এলাকা পিটিআই মোড়সংলগ্ন খানজাহান আলী সড়কে কম্পিউটার ব্যবসায়ী নাজমুল আহসান রণি দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন। প্রকাশ্যে মোটরসাইকেলযোগে দুই মুখোশধারী সন্ত্রাসী এসে পেছন থেকে তাঁকে গুলি করে চলে যায়। আহত রণির দাবি, তাঁর সঙ্গে কারো ব্যবসায়িক, আর্থিক বা অন্য কোনো বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব নেই। কী কারণে এ হামলা হলো তিনি বুঝতে পারছেন না।

এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে নগরীর জোড়াগেট কেএমপির ট্রাফিক কার্যালয়ের পাশে তিনটি দোকানের তালা ভেঙে দুর্বৃত্তরা অন্তত ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা অনুপম গ্যাস চুলা, মেসার্স আবুল ব্রাদার্স ও পিকুল বার্নার হাউসের তালা ভেঙে শতাধিক গ্যাস সিলিন্ডার ও চুলা ট্রাকে তুলে নিয়ে গেছে।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি নগরীর মুন্সীপাড়া দ্বিতীয় গলিতে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে খুলনা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আনজিরা বেগমের বাড়িতে। ১২ ফেব্রুয়ারি জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয় থেকে দুর্বৃত্তরা বিভিন্ন ট্রফি চুরি করে নিয়ে যায়। এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি রাতে খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার হিসাব শাখা থেকে ড্রয়ারের তালা ভেঙে সাড়ে ৯ হাজার টাকা, ক্রীড়া সামগ্রী, কিডস্ ব্যাগ ও অফিসের কম্পিউটার চুরি হয়। এসব ঘটনায় থানায় মামলা ও অভিযোগ দায়ের হলেও অপরাধীরা শনাক্ত হয়নি।

চলতি মাসে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় জানানো হয়, মহানগরীর আটটি থানায় গত জানুয়ারি মাসে ডাকাতি দুটি, রাহাজানি একটি, চুরি ছয়টি, খুন দুটি, অস্ত্র আইনে দুটি, দ্রুত বিচারে তিনটি, ধর্ষণ একটি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৯টি, মাদকদ্রব্য ৭৭টি এবং অন্যান্য ৪৯টিসহ মোট ১৫৬টি মামলা দায়ের হয়েছে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে এ ধরনের অপরাধের সংখ্যা ছিল ১৩৮টি।

ভুক্তভোগীরা বলছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারির অভাব রয়েছে। এ ছাড়া ঘটনা ঘটার পর অপরাধীদের শনাক্ত করে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে অপরাধীরা ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

খুলনা এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি তোবারক হোসেন তপু বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে রয়েছি। আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে রাতে শুধু চুরিই নয়, মালামাল ট্রাকে তুলে নিয়ে গেলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখে পড়েনি। এর আগে খানজাহান আলী রোডের (রয়্যাল মোড়সংলগ্ন) ঊর্মি ইন্টারপ্রাইজসহ দুটি দোকানের সামনে একই কায়দায় ট্রাক রেখে মালামাল লুট করে নিয়ে যায় একদল দুর্বৃত্ত। সেসব ঘটনা সিসি ক্যামেরায় রেকর্ডও হয়েছিল। কিন্তু অপরাধীরা শনাক্ত না হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। ’

কম্পিউটার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ শহিদুল হক সোহেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কম্পিউটার ব্যবসায়ী রণির ওপর হামলার ঘটনা আমাদের আতঙ্কিত করে তুলেছে। কেউ আর এখন নিরাপদ নই। আমরা চাই পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করুক।


মন্তব্য