kalerkantho


আবদুল্লাহ আবু সায়ীদকে কলকাতায় উষ্ণ সংবর্ধনা

‘লেখক না হওয়ার কষ্ট বুকে নিয়েই মরতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



যাঁর জীবনের বেশির ভাগ সময়জুড়ে বই আর বই পড়া, আর এর মধ্য দিয়ে জ্ঞান আহরণে আলোকিত মানুষ হওয়ার ডাক দেওয়ার—সেই মানুষ আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ শোনালেন আক্ষেপের কথা। কলকাতায় তাঁকে দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বললেন, ‘জীবনে অনেক মানুষকে বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করেছি; কিন্তু লেখক হতে পারলাম না। কষ্টটা জীবনে হয়তো থেকেই যাবে। ’ আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের ভাষায়, আলোকিত মানুষ হতে হলে আগুনের মতো কষ্ট সহ্য করতে হবে, আগুন বুকে ধারণ করলেই আলোকিত হওয়া যাবে।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতার আইসিসিআর ভবনের অবনীন্দ্রনাথ গ্যালারিতে যৌথভাবে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সংবর্ধনার আয়োজন করে কলকাতার বেশ কয়েকটি সংগঠন। তাদের অন্যতম হলো অভিযান পাবলিকেশন।

কলকাতায় জন্ম হওয়া আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ কলকাতার এই সংবর্ধনাকে জীবনের বিরলতম অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করলেন। জানালেন, ‘কলকাতায় আমার জন্ম হলেও বাবার সঙ্গে পরবর্তীতে টাঙ্গাইলে বসবাস শুরু করি। ’

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘১৯৭৮ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার পর বই পড়ার অভ্যাস গড়ার জন্য হাজার হাজার মইল ঘুরে বেড়িয়েছি, এখন যে কারণেই হোক বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠেছে। রাষ্ট্র, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সব সরকারের সময়ই আমরা সহযোগিতা পেয়েছি। ’ তবে তিনি অক্ষেপও করেন।

বলেন, বইয়ের জন্য যা করার ছিল সেটা বিশ্বজুড়েই করা হয়নি, তাই বইয়ের বিস্তার ইন্টারনেট থেকে কম। ইন্টারনেটের বিস্তারের জন্য ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। আর এর জন্যই ইন্টারনেট শোবার ঘর থেকে রান্নাঘর কিংবা ঘরের বইরের হাজার কিলোমিটার দূরেও যুক্ত রয়েছে।

যদিও তিনি মনে করেন, ইন্টানেটের জন্য পাঠক কমেনি। কেননা সিরিয়াস পাঠক দশজনের একজন হোন—তাঁরা শেষ পর্যন্ত বইয়ের মধ্যেই থাকেন।

মানুষ গড়ার ডাক দেওয়ার ‘ডাকপিয়নের’ উপস্থিতিতে মুগ্ধ হয়েছেন কলকাতার বিশিষ্টজনরা। বিশেষ করে প্রসারভারতীর সাবেক সিইও জওহর সরকার, দূরদর্শনের সাবেক পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান কবি পঙ্কজ সাহা কিংবা সংগীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায় বই আন্দোলনের পথিকৃেক কাছে পেয়ে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের সূচনা সংগীত পরিবেশন করেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়। এরপর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের জনক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের শৈশব, কৈশোর, যৌবন কিংবা পরবর্তীকালে আলোকিত মানুষ গড়ার সোপান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় একই প্রশ্ন-উত্তর পর্বে। সেখানে তিনি বলেন জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা।

স্বাধীনতার পর সোনার বাংলা সবাই হাতে পেয়েছিল বলে প্রচার করা হয়, প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতার দশ বছর পর থেকে আমরা বাঙালিরা বুঝতে পারলাম সোনার বাংলা পাইনি, পেয়েছি কাদা-মাটির বাংলা। সেটাকে সোনার বাংলা তৈরির জন্যই আমাদের পরবর্তীকালে লড়াই শুরু হয়।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে বর্তমানে ২৫ লাখ পাঠক রয়েছে। আগামী দুই বছরে এই সংখ্যা কমপক্ষে ৫০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে এবং সারা বাংলাদেশে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের শাখা বিস্তার লাভ করবে বলেও জানান আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তিনি বলেন, বই পড়ার পুরস্কার হিসেবে এ বছর এপ্রিল মাসে ৩৩ কোটি টাকার বই উপহার দেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘আমার একটা কষ্ট হয়তো সারা জীবনই থেকে যাবে। সেটা লেখক না হতে পারা। ’

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদকে অনুষ্ঠানের শেষ অংশে উত্তরীয় গলায় জড়িয়ে সংবর্ধনা দেন কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত, সৌরীন ভট্টাচার্য ও প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়। দেওয়া হয় রুপার রিকশা।


মন্তব্য