kalerkantho


ধুলাদূষণ রোধে ১২ দাবি পবার

নজরদারি বৃদ্ধি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ধুলাদূষণ রোধে ১২ দাবি পবার

ধুলাদূষণ রোধে ১২ দফা দাবি তুলে ধরেছে পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)। গতকাল শনিবার রাজধানীর শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে মানববন্ধন করে এসব দাবি তুলে ধরেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান আবু নাসের খান।

ধুলাদূষণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায় পবা। সেই সঙ্গে সিটি করপোরেশন, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বৃদ্ধি এবং দায়িত্বে অবহেলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে পবার চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে ঢাকা মহানগরীতে ধুলাদূষণ প্রকট আকার ধারণ করেছে। ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীতে ধুলাদূষণের মাত্রা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। এর কারণ এই সময়ে রাজধানীর আশপাশে হাজার হাজার ইটভাটা চালু থাকার পাশাপাশি মহানগরীতে গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির লাইন এবং ড্রেনেজ ও রাস্তাঘাট উন্নয়নে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ বেড়ে যায়। তা ছাড়া নিয়ম না মেনে মাটি, বালুসহ নির্মাণসামগ্রী অনেক দিন ধরে যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়।

এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে আবু নাসের খান বলেন, ইট তৈরিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও নিম্নমাত্রার সালফারযুক্ত কয়লা ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনো ভবন নির্মাণ-সংস্কারের সময় নির্মাণসামগ্রী রাস্তার ওপর বা রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় রাখা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ধুলা তৈরি করে এমন কোনো সামগ্রী (বালু, মাটি, ইট, পাথর) বহনের সময় সঠিক আচ্ছাদন ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

মানববন্ধন থেকে আরো কয়েকটি দাবি বাস্তবায়নের পরামর্শ দেওয়া হয় পবার পক্ষ থেকে। তাতে বলা হয়, পরিষেবাদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সব পরিষেবা কার্যক্রমের জন্য রাস্তা একবার খুঁড়লেই চলে। রাস্তাঘাট ও ফুটপাত নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও মেরামত করতে হবে। নালা-নর্দমা পরিষ্কার করার পর আবর্জনা রাস্তার পাশে জমিয়ে না রেখে দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে।

পবার সুপারিশে আরো বলা হয়, নগরবাসীকে আবর্জনা যথা স্থানে ফেলতে উদ্বুদ্ধ করা এবং সিটি করপোরেশনকে আবর্জনা সংগ্রহ ও পরিবহনের সময় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে যানবাহন থেকে আবর্জনা রাস্তায় ছড়িয়ে না পড়ে। সেই সঙ্গে কারখানার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ধুলাদূষণ ও এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোরও উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানায় পবা।

পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান আরো বলেন, জীবণুযুক্ত ধুলায় শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, অ্যালার্জি, চর্মরোগসহ নানা রোগব্যাধি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ধুলাদূষণের ফলে গাছপালার বৃদ্ধি ও ফলন ব্যাহত হচ্ছে। ধুলাদূষণে একদিকে যেমন স্বাস্থ্যগত ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি আর্থিক ও পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় অবিলম্বে ধুলাদূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।


মন্তব্য