kalerkantho


নিজ দলের নেতাকর্মীদের হাতে এমপি লাঞ্ছিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা যুবলীগের সম্মেলনে নিজ দলের নেতাকর্মী-সমর্থকদের হাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে মনোহরদী ডিগ্রি কলেজ মাঠে উপজেলা যুবলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টার দিকে সম্মেলনের আলোচনা পর্ব শেষে উপজেলা যুবলীগের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নাম প্রস্তাবের ঘোষণা দেন জেলা যুবলীগের সভাপতি একরামুল ইসলাম ভূঁইয়া। এ সময় প্রথমে সভাপতি হিসেবে এম এস ইকবাল আহমেদের নাম প্রস্তাব করা হয়। পরে সংসদ সদস্য নুরুল মজিদের ছেলে মনজুরুল মজিদ সাদী তাঁর পছন্দের প্রার্থী তৌহিদুল আলমের নাম প্রস্তাব করার জন্য মঞ্চে যাওয়ার সময় ইকবাল সমর্থকরা বাধা দেয়। তারা সংসদ সদস্যের ছেলেকে টেনে মঞ্চ থেকে নিচে নামিয়ে দেয়। সংসদ সদস্য ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে ইকবালের সমর্থকরা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রায় পাঁচ মিনিট পর  জ্যেষ্ঠ নেতা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করে মঞ্চে নিয়ে যান। এতে প্রায় ১০ মিনিট সম্মেলনের কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এম এস ইকবাল আহমেদ সভাপতি ও এস এম রাশেদুল আলম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, ‘এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদ দেওয়া হয়েছে। যুবলীগ বড় সংগঠন, এ নিয়ে অসন্তোষ থাকতেই পারে। ’

এর আগে মনোহরদীর সন্তান হয়েও যুবলীগের সম্মেলনে আমন্ত্রণ না জানানোয় কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপশিক্ষা প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার সম্পাদক কাজী মাজহারুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ এলাকায় তাদের ওপর সংসদ সদস্যের লোকজন হামলা চালায় বলে দাবি করেছেন কাজী মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্যের নামে স্লোগান দিয়ে একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে আমার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। ’ তাদের মধ্যে চারজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে মাজহারুলের সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে সংসদ সদস্য বলেন, ‘উনি চট্টগ্রামে জামায়াত-শিবির করেন। এলাকায় ওনাকে আর ওনার লোকজনকে কখনো দেখিনি। ’


মন্তব্য