kalerkantho


ভালোবেসে বিয়ে করেছি এখন শেষ করে দিচ্ছে

খুলনা অফিস   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



‘ওকে আমি ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। ও এখন আমাকে শেষ করে দিচ্ছে। বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই সে ব্যবসার কথা বলে যৌতুক দাবি করে। আমি রাজি না হওয়ায় নির্মমভাবে নির্যাতন শুরু করে। প্রায়ই মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে শেষ করার হুমকি দিত। আমি এখন ওর হাত থেকে বাঁচতে চাই। ’

খুলনায় যৌতুকের দাবিতে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক গৃহবধূ এভাবেই নিজের কষ্ট ও আতঙ্কের কথা তুলে ধরলেন কালের কণ্ঠ’র কাছে। নির্যাতিত এ গৃহবধূর নাম রাফিজা আক্তার টুম্পা। তিনি বর্তমানে খুলনা জেনারেল (সদর) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। টুম্পা খুলনা নগরীর ইকবালনগর এলাকার ওহাব এভিনিউয়ের বাসিন্দা শফিউল আলমের মেয়ে।

গতকাল শনিবার হাসপাতালে টুম্পার পাশে থাকা তাঁর বাবা শফিউল আলমও জানালেন তাঁর ভয়ের কথা।

তিনি বলেন, ‘আমি একজন অসহায় বাবা। আমার কোনো লোকজন নেই। মেয়েটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। আর আমরা উল্টো হুমকি-ধমকিতে ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। জানি না কখন কী বিপদ হয়ে যায়। আমরা এ অবস্থা থেকে বাঁচতে চাই। ’

শফিউল আলম জানান, গত বছরের মাঝামাঝিতে ফেসবুকের মাধ্যমে গোপালগঞ্জের গোপিনাথপুরের বাসিন্দা শেখ ফরহাদ হোসেন মুরাদের সঙ্গে টুম্পার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মুরাদ গোপিনাথপুরের মো. সাহেব আলী শেখের ছেলে। পরে ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই জামাই মুরাদের স্বভাব পাল্টে যায়। সে বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য টুম্পার ওপর নির্যাতন শুরু করে। প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় বাসায় ফিরে নির্যাতন করত টুম্পাকে। এসব সহ্য করতে না পেরে টুম্পা একবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করে।

সর্বশেষ গত ৯ ফেব্রুয়ারি খুলনার ইকবালনগরে রাফিজার বাবার বাসায় টুম্পাকে একা পেয়ে মুরাদ কোমরের বেল্ট দিয়ে পিটিয়ে এবং লাথি ও ঘুষি মেরে প্রচণ্ড নির্যাতন করে। চিৎকার শুনে আশপাশের লোক এগিয়ে এলে মুরাদ পালিয়ে যায়। পরে টুম্পাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শফিউল আলম বলেন, ওই ঘটনার পর খুলনা সদর থানায় মামলা করলে মুরাদ আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। ’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুলনা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত মুরাদের বাড়ি খুলনার বাইরে গোপালগঞ্জ জেলায়। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।


মন্তব্য