kalerkantho


চট্টগ্রামে একুশের অনুষ্ঠানের নামে জামায়াতি তৎপরতা!

প্রতিহত করার ঘোষণা নগর ছাত্রলীগের

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০




চট্টগ্রামে একুশের অনুষ্ঠানের

নামে জামায়াতি তৎপরতা!

মহান অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নগরের লালদীঘি মাঠে একুশ উৎসবের আয়োজন করেছে ‘চট্টগ্রাম একুশ উৎসব পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন। জামায়াত সমর্থিত এবং দেশের স্বাধীনতাবিরোধী সংগঠন আখ্যায়িত করে তাদের তিন দিনের কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে মহানগর ছাত্রলীগ।

ইতিমধ্যে ওই সংগঠনকে অনুষ্ঠান করার অনুমতি না দিতে পুলিশকে চিঠি দিয়েছে মহানগর ছাত্রলীগ। পুলিশ অনুষ্ঠান করার অনুমতি দিলে তা প্রতিহত করার ঘোষণাও দিয়েছেন সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের নেতারা।

মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রণি গতকাল শনিবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উৎসব আয়োজনকারী ওই বিতর্কিত সংগঠনের চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ সানাউল্লাহ। তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতির জনকের ছবি নেই। আছে তাঁর নিজের ছবি। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জামায়াত-শিবিরের আদর্শ প্রচার করেন। বক্তব্য-বিবৃতিতে তিনি সব সময় মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা নিয়ে বিকৃত তথ্য ও ইতিহাস প্রচার করে আসছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও তিনি অনেক অপ্রচার করেছেন। আমাদের কাছে তথ্য আছে।

রণি বলেন, ‘এই সানাউল্লাহ এখন আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক মহান একুশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন। একুশে ফেব্রুয়ারিতে উৎসব করা আমাদের জাতীয় চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটা আমরা করতে দিতে পারি না। এ জন্যই আমরা এই উৎসব প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছি। ’

মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু বলেন, ‘সিটি এসবির (বিশেষ শাখা) কাছে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। গত বৃস্পতিবার পাঠানো চিঠি আজকে (গতকাল) তারা গ্রহণ করে। আমরা পুলিশকে বলেছি অনুমতি না দেওয়ার জন্য। আর যদি অনুমতি দেওয়া হয় তাহলে ওই সংগঠনের কর্মসূচি প্রতিহত করব। ’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (বিশেষ শাখা) মো. মোখলেছুর রহমান গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, “আমরা এখন চট্টগ্রামে শুরু হওয়া শেখ কামাল ক্লাব ফুটবল লিগ নিয়ে ব্যস্ত আছি। এরপর অমর একুশের অনুষ্ঠান নিয়ে আমরা চিন্তা করব। ২৬ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠান আরো দেরি আছে। লালদীঘি মাঠে এখনো ‘একুশ উৎসব’ করার অনুমতি দিইনি। তা ছাড়া ওই অনুষ্ঠানের আমরা এখনো কোনো চিঠি পাইনি। ” তিনি বলেন, ‘মহানগর ছাত্রলীগের ২৬ ফেব্রুয়ারি লালদীঘির মাঠের অনুষ্ঠান প্রতিহত করা সম্পর্কিত কোনো চিঠিও হাতে আসেনি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে লায়ন মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, ‘এটি জামায়াতের সংগঠন নয়। আমরা এবার তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। আমরা অনুষ্ঠান করার জন্য পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি পেয়েছি। স্কুল থেকে মাঠ বরাদ্দও পেয়েছি। ’ ছাত্রলীগের অনুষ্ঠান প্রতিহত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো বিরোধে যেতে চাই না। তারা যদি না চায় তাহলে করব না। এ ব্যাপারে আজ-কালের মধ্যে বসে সিদ্ধান্ত নেব। ’

জানা যায়, ২৬ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি একুশে উৎসবে টিভি অভিনেতা ও চিত্রনায়কদের অতিথি করার কথা উল্লেখ করে নগরে সাঁটানো হয়েছে পোস্টার। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা উল্লেখ আছে। অনুষ্ঠানের মধ্যে আছে চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, সংগীত প্রতিযোগিতা, ভাষাশহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান ও স্মৃতিচারণা এবং আলোচনা অনুষ্ঠান।


মন্তব্য