kalerkantho


বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

ছয় মাসে ৫১ গাড়ি ভেঙেছে শিক্ষার্থীরা

আজিম হোসেন, বরিশাল   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ছয় মাসে ৫১ গাড়ি ভেঙেছে শিক্ষার্থীরা

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ। ছবি : কালের কণ্ঠ

পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গতকাল শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়ক এক ঘণ্টা অবরোধ করে রেখে গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এতে পটুয়াখালীর দুমকী জনতা কলেজের এক শিক্ষিকাসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও বাস মালিক সমিতির দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, চলতি মাসে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাস শ্রমিকদের এ রকম চারবার বিরোধের ঘটনা ঘটে। প্রতিবারই শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে গাড়ি ভাঙচুর করেছে। আর গত ছয় মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বরিশাল-পটুয়াখালী-ভোলা সড়ক ২০ বা এরও বেশিবার অবরোধ করেছে। এসব ঘটনায় ২১টি বাসের পাশাপাশি ৩০টি ব্যক্তিগত গাড়ি (প্রাইভেট কার) ভাঙচুর করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আহত হয়েছে অনেকে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাস শ্রমিকদের খারাপ আচরণ, সঠিক স্থানে গাড়ি না থামানো, ভাড়া নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং শিক্ষার্থীদের অসম্মান করার অভিযোগে এসব ঘটনা ঘটে। সপ্তাহখানেক আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাসের হেলপারের বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক তিন ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। আর ওই দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।

গতকালের ঘটনা সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানায়, বরিশাল নগরের নথুল্লাবাদ থেকে বিআরটিসির একটি বাসে উঠে ভাড়া না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নেমে যায় এক শিক্ষার্থী। তখন ওই শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্র রেখে দেয় বাসের হেলপার। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই শিক্ষার্থী অন্যদের নিয়ে এসে মহাসড়কের ওপর বসে পড়ে। সড়ক অবরোধের পাশাপাশি তারা গাড়ি ভাঙচুর করতে শুরু করে। দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত অবরোধ চলাকালে বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা। তবে এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা।

দুমকী জনতা কলেজের শিক্ষিকার স্বামী, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ জাহিদ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায়ই সড়ক অবরোধ ও গাড়ি ভাঙচুর করে। পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার।

বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শ্রমিকদের দ্বন্দ্ব হয়। শিক্ষার্থীদের একটু সহনীয় হওয়া উচিত।

বরিশাল মহানগর পুলিশের উপকমিশনার গোলাম রউফ বলেন, বাস শ্রমিকদের সঙ্গে কিছু হলেই শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে। আর এতে ভোগান্তির শিকার হয় সাধারণ মানুষ। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা গাড়িও ভাঙচুর করে। তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও বাস মালিক সমিতির সঙ্গে বেশ কয়েকবার বসেছি। তবে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছেই। ’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শফিউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। তবে বাস শ্রমিকদের আচরণ সহনীয় নয়। এ কারণে বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। ’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম ইমামুল হক বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। তবে বাস শ্রমিকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রূঢ় ব্যবহার করায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়। ’


মন্তব্য