kalerkantho


আশুলিয়ায় গ্রেপ্তার এক ব্যক্তি পাংশায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

কক্সবাজারে ‘গোলাগুলি’তে নিহত ইয়াবা কারবারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার ও রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়া থেকে গ্রেপ্তারের পর কথিত এক চরমপন্থী নেতা রাজবাড়ীর পাংশায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার শরিষা ইউনিয়নের নাওরা বনগ্রামের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আগের দিন বুধবার ভোরে তাঁকে আশুলিয়ার জিরানী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

এদিকে কক্সবাজারে দুটি দলের মধ্যে ‘গোলাগুলি’তে একজন শীর্ষস্থানীয় ইয়াবা কারবারি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার ভোরে কলাতলীর কাটা পাহাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রাজবাড়ী : পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত ব্যক্তির নাম মোয়াজ্জেম হোসেন (৩৫)। তিনি পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের জোনা পাট্টা গ্রামের মজিদ ফকিরের ছেলে।

পাংশা থানার ওসি মোফাজ্জেল হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  মোয়াজ্জেমকে গত বুধবার ভোরে আশুলিয়ার জিরানী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন তাঁকে পাংশা থানায় নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তাঁর হেফাজতে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি মজুদ থাকার কথা জানান। এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের জন্য গত বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে মোয়াজ্জেমকে নিয়ে উপজেলার শরিষা ইউনিয়নের নাওরা বনগ্রামের তিন রাস্তার মোড়ের বটতলা এলাকায় পুলিশ অভিযান চালায়।

এ সময় তাঁর সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা সাত রাউন্ড গুলি করে। দুই পক্ষের গুলিবিনিময়ের সময় মোয়াজ্জেম গুলিবিদ্ধ হন। একই ঘটনায় আহত হন পাংশা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শরিফুল ইসলাম, এএসআই আহসান হাবিব ও পুলিশ কনস্টেবল আপন সরদার।

ওসি জানান, আহত সবাইকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক মোয়াজ্জেমকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শ্যুটারগান, একটি গুলি ও দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

পুলিশ কর্মকর্তা মোফাজ্জেল হোসেন জানান, এ অঞ্চলের চরমপন্থী সংগঠন ‘বিপুল বাহিনী’র প্রধান ভারতে অবস্থান করছেন। গত কয়েক বছর ধরে এই ‘বাহিনী’কে সংগঠিত করে পরিচালনা করে আসছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন।

ওসি জানান, মোয়াজ্জেমের নেতৃত্বে এ ‘বাহিনী’ রাজবাড়ীর কালুখালী ও পাংশা, কুষ্টিয়ার খোকশা, মাগুরার লাঙ্গলবাদ ও ঝিনাইদহের শৈলকুপা এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছে। মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে রাজবাড়ীতেই সাতটি হত্যা মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে আরেকটি মামলা রয়েছে।

কক্সবাজার : কলাতলীর কাটা পাহাড় এলাকায় নিহত ব্যক্তির নাম মোস্তাক আহম্মদ ওরফে হাজী মফিজ (৩৫)। তিনি কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ফজলুল হকের পুত্র।

গতকাল শুক্রবার ভোরে পুলিশ কলাতলীর কাটা পাহাড় এলাকা থেকে নিহত ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ মৃত দেহ উদ্ধার করে। পুলিশ দাবি করেছে, মফিজ স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় ইয়াবা কারবারি। ঘটনাস্থল থেকে দুই হাজার ৮০০টি ইয়াবা, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোরের দিকে ইয়াবা পাচারকারীদের দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরে মফিজকে শনাক্ত করা হয়।

পুলিশ পরিদর্শক জানান, মফিজের বিরুদ্ধে থানায় ইয়াবা পাচারের ছয়টি মামলা রয়েছে।


মন্তব্য