kalerkantho


‘পিপীলিকা বাংলা উৎসব’ উদ্বোধন চট্টগ্রামে

গণপূর্তমন্ত্রী বললেন, মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘আমরা যখন মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুলে পড়তাম তখন হাতে গোনা কয়েকজন ছাত্রী ছিল। এখন দেখি ছাত্রের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা বেশি।

তা থেকে বোঝা যায়, দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে মেয়েদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রীও চান মেয়েরা শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে যাক। এটি একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য ভালো দিক। আমরা চাই, আমাদের দেশের মেয়েরা সব দিক দিয়ে আরো এগিয়ে যাক। ’

গতকাল শুক্রবার দুপুরে নগরের চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে ‘পিপীলিকা বাংলা উৎসব-২০১৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণপূর্তমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি এই স্কুলের সাবেক ছাত্র। তখন এত ছাত্রী ছিল না। কিন্তু এখন দেখি ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। এ জন্য ব্যক্তিগতভাবে আমি অনেক খুশি।

এর আগে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী বাংলা ভাষা ও বানান বিষয়ে যাবতীয় ভয় দূর করার উদ্দেশ্যে স্কুল ও কলেজে পড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘পিপীলিকা বাংলা উৎসব-২০১৭’-এর উদ্বোধন করেন। ‘বাংলা নিয়ে নানান খেলা সারাবেলা’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত এ উৎসবের শিরোনাম রাখা হয়েছে ‘শব্দকল্পদ্রুম’। ৭০টিরও বেশি স্কুল-কলেজের পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়া প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করে। তাদের কাছ থেকে এক ঘণ্টার একটি পরীক্ষাও নেওয়া হয়। পরীক্ষায় প্রথম ৫০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।

সরকারের আইসিটি ডিভিশন, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্বিক সহযোগিতায় এবং মিডিয়াগ্রাফির ব্যবস্থাপনায় ‘শব্দকল্পদ্রুম উদ্‌যাপন কমিটি’ আয়োজন করে এ উৎসব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উৎসব উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি বিজ্ঞানী ও লেখক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম ও সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী প্রমুখ।

ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তির সচেতনতা জরুরি উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘ভারতে গেলে আমরা দেখি সেখানে তারা প্রতিটি দোকান-অফিস-আদালতে সাইনবোর্ড হিন্দিতে লিখছে। তারা চেষ্টা করে তাদের মাতৃভাষায় সব কিছু বলতে ও লিখতে। সেখানে আমরা কতটুকু বলছি বা লিখছি। বাংলা ভাষা ব্যবহারের দায়িত্ব কিন্তু আমাদেরই। ’

জাফর ইকবাল আরো বলেন, ‘বর্তমানে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে ফেসবুক। সেখানে তারা বাংলিশ ভাষা ব্যবহার করে। এতে যে ভাষার কত ক্ষতিসাধন হচ্ছে তা তারা বুঝতে পারছে না। তাই ভাষা ব্যবহারে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। দরকার হলে একলাইন বাংলা লিখি, কিন্তু তা যেন শুদ্ধভাবে লেখা হয়। ’

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘পিপীলিকা বাংলা উৎসবের কাজ হলো বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষার ওপর দক্ষতা বাড়ানো। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে আসা। আমরা পুরো একটি দিন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটাই। এক ঘণ্টার একটি পরীক্ষাও নিই। পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সম্পূর্ণ পাঠ্য বইয়ের বাইরে থেকে দেওয়া হয়। সবচেয়ে বড় কথা—শিক্ষার্থীরা যাতে নিজের ভাষার ব্যাপারে দক্ষ হয় সেটিই আমাদের উদ্দেশ্য। নিজের ভাষা শুদ্ধভাবে যাতে লিখতে পারে সে জন্য আমাদের এই আয়োজন। ’


মন্তব্য