kalerkantho


গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা

সর্বস্তরে শুদ্ধ বাংলার প্রচলন করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মায়ের ভাষা বাংলার জন্য জাতির বীর সন্তানরা প্রাণ দিয়েছেন। অথচ নতুন প্রজন্মের মাঝে সেই ভাষার প্রতি এক ধরনের অনীহা দেখা যায়।

এ জন্য সাধারণ জনগণকে সচেতন হতে হবে। আর সরকারকে সর্বস্তরে শুদ্ধ বাংলা প্রচলনে উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে মহান ভাষা আন্দোলনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরতে হবে।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে এমন দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনরা। রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ভাষা আন্দোলন, বঙ্গবন্ধু, জাতিসত্তা ও জাতিরাষ্ট্র’ শীর্ষক এই গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করা হয়।

 

আয়োজক সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ডা. এস এ মালেকের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মিজান উদ্দিন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফায়েকুজ্জামান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল খালেক, বুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস এম এনামুল হক, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহিত উল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. আকতারুজ্জামান প্রমুখ।

আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকেই বঙ্গবন্ধু এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং নানাভাবে কাজ করেছেন। ভাষা আন্দোলনের কারণেই ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান সরকারের হাতে কারাবরণ করেন। সেই ১৮৪৮ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন জাতির জনক।

ইয়াফেস ওসমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছিল বলেই বাঙালি জাতি তার অধিকার ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ পেয়েছে। মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার ডাক—সব কিছুতেই বঙ্গবন্ধু ছিলেন মহানায়ক।

সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, বাংলাদেশে বাংলা, ইংরেজি ও আরবি তিন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলিত। এ রকম দ্বিধাবিভক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে সবার মাঝে এক ধরনের মানসিকতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। শিক্ষাব্যবস্থায় শুদ্ধ বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠার পর অন্য ভাষায় শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে।

এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, ভাষা আন্দোলনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন কিছু বুদ্ধিজীবী। ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা সঠিকভাবে নতুন প্রজন্মকে জানানোর উদ্যোগ নিতে হবে।


মন্তব্য