kalerkantho


কালের কণ্ঠ আঞ্চলিক জীববিজ্ঞান উৎসব ২০১৭

‘সামনের সময়টা জীববিজ্ঞানের’

উৎসবে অংশ নেয় ৮৫৮ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



‘সামনের সময়টা জীববিজ্ঞানের’

মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চ বিদ্যালয়ে গতকাল আঞ্চলিক জীববিজ্ঞান উৎসবে অতিথিদের সঙ্গে বিজয়ীরা।ছবি : কালের কণ্ঠ

‘পৃথিবীতে লোক বাড়ছে। আর দিন দিন তাদের চাহিদাও বাড়ছে। খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হচ্ছে। মূলত আগামী দিনের বেশির ভাগ আবিষ্কারই হবে উদ্ভিদ ও প্রাণীনির্ভর। তাই আমাদের জীববিজ্ঞান নিয়ে আরো বেশি জানতে হবে, শিখতে হবে। কারণ সামনের সময়টা পুরোপুরিই জীববিজ্ঞানের। তাই এ উৎসবে অংশ নেওয়া। ’

এ কথাগুলো ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিম মুনতাহার। কালের কণ্ঠ আঞ্চলিক জীববিজ্ঞান উৎসব ২০১৭-তে অংশ নেওয়ার পেছনে নিজের উদ্দেশ্য এভাবেই জানালো সে। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চ বিদ্যালয়ে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।

মুনতাহার মতো জানতে ও শিখতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৫৮ শিক্ষার্থী অংশ নেয় এ উৎসবে।

গতকাল সকাল ৭টায়ই ভিড় লেগে যায় বাংলাদেশ ব্যাংক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে। ৯টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের মাঠে উদ্বোধনী পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় এক ঘণ্টার লিখিত পরীক্ষা। এরপর সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। শিক্ষার্থীদের নানা কৌতূহলী প্রশ্নবাণে জর্জরিত হন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা জীববিজ্ঞানীরা। বৃহৎ এই উৎসবের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ, আয়োজক বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াড, অনলাইন পার্টনার বিডিটাইমস ৩৬৫ ডটকম এবং কারিগরি ও প্রকাশনা সহযোগী ল্যাব বাংলা।

ওয়াইডাব্লিউসিএর নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ঋদি ঋত্বিকা বসু বলল, ‘বায়োলজি আমার আগ্রহের বিষয়। আর এই বায়োলজি নিয়ে যেহেতু এত বড় একটি উৎসব হচ্ছে, তাই অংশ নিতে এলাম। ছুটির দিনে বাবাও আমার সঙ্গে এসেছে। ’ রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মির্জা প্রমিতাকে উৎসবে নিয়ে এসেছেন ওর মা মির্জা সাবিনা। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পাঠ্য বইয়ের বিজ্ঞান বিষয়গুলো অনেকটাই মুখস্থনির্ভর। আমার ছেলেরও বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আগ্রহ আছে। আর আমিও চাই সে বিজ্ঞান সম্পর্কে জানুক। ’

বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চ বিদ্যালয়, ফরিদাবাদ শাখা থেকে প্রত্যয় মাহমুদ এসেছে ওর বাবাকে সঙ্গে নিয়ে। প্রত্যয়ের বাবা জাকির হোসেন ফকির বলেন, ‘এ প্রতিযোগিতায় রেজিস্ট্রেশন করে আমার ছেলের পড়ালেখার গতি অনেক বেড়েছে। সে বিজ্ঞান সম্পর্কে জানার অনেক চেষ্টা করছে। আমার তো মনে হয়, সব বিষয়েই যদি একটি অলিম্পিয়াড হতো তাহলে আরো ভালো হতো। ’

প্রশ্নোত্তর পর্বেও বিভিন্ন প্রশ্ন করে তাক লাগিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা। গোপালগঞ্জের বীণাপাণি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী যূথী হীরার প্রশ্নটি ছিল ব্যতিক্রম। লিখিত প্রশ্নে সে জানতে চায়, ভিটামিন ‘সি’ তাপে নষ্ট হয়। গাছে যে ফল ধরে থাকে এর মধ্যেও ভিটামিন সি আছে। কিন্তু গাছে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন ফলের মধ্যে থাকা ভিটামিন সি সূর্যালোকে নষ্ট হয় না কেন?’ আর যূথী এই প্রশ্ন করে জিতে নেয় সেরা ইনোভেটিভ প্রশ্নকারীর পুরস্কার।

বক্তৃতা পর্বে বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক ড. রাখহরি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর আমাদের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি। সে সময় আমাদের খাদ্য সংকট ছিল। কিন্তু এখন জনসংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হলেও আয়তন রয়েছে আগের মতোই। এর পরও এখন আমরা খাদ্যে স্বয়ংসস্পূর্ণ। ’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক মো. ওছমান গণি বলেন, ‘ম্যাথ অলিম্পিয়াড, ফিজিক্স অলিম্পিয়াড, জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের সুযোগ আমাদের সময় ছিল না। শিক্ষার্থীরা যেভাবে প্রশ্ন করল তাতে আমি অভিভূত। এই অলিম্পিয়াডের আয়োজকরা যেভাবে জীববিজ্ঞানকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, তাতে ভবিষ্যতে আমরা এর সুফল ভোগ করতে পারব। ’

ঢাকা দক্ষিণের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় তিন পর্বে বিজয়ী হয় ৭৯ শিক্ষার্থী। জুনিয়র ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয় চারজন, প্রথম রানার-আপ হয় ১০ জন ও দ্বিতীয় রানার-আপ হয় ৩০ জন। মাধ্যমিক ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয় দুজন, প্রথম রানার-আপ হয় সাতজন ও দ্বিতীয় রানার-আপ হয় ১৯ জন। উচ্চ মাধ্যমিক ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয় দুজন, প্রথম রানার-আপ হয় ছয়জন ও দ্বিতীয় রানার-আপ হয় আটজন। তিন ক্যাটাগরির মধ্য থেকে চ্যাম্পিয়ন অব দ্য চ্যাম্পিয়নের পুরস্কার জিতে নেয় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী কাজী তাহরিন। গতকালের পরীক্ষায় ১৬০ নম্বরের মধ্যে সে পায় ১১৩ নম্বর। ঢাকা দক্ষিণের বিজয়ীদের নিয়ে আজ শনিবার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজকরা জানান, দেশের ১০টি ভেন্যুতে বৃহৎ এই জীববিজ্ঞান উৎসবের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় জীববিজ্ঞান উৎসব। আর এই জাতীয় জীববিজ্ঞান উৎসবের সেরা চার প্রতিযোগী বছরের মাঝামাঝিতে অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান উৎসবে যাওয়ার সুযোগ পাবে।

গতকালের উৎসবে বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মো. জাহেদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান খন্দকার, ডা. মনিরুল ইসলাম, ড. তারিক আরাফাত, ড. বিভাষ কুমার, ড. তাহমিনা ইসলাম প্রমুখ।


মন্তব্য